চিন্ময় মহান্তী
Showing posts with label চিন্ময় মহান্তী. Show all posts

মুক্তির আশে

চিন্ময় মহান্তী



চলো যাই, রূপকথার ওই মাদুরে ভেসে
সোনার কাঠি রুপোর কাঠির দেশে,
চলো যাই, পক্ষীরাজ ঘোড়ায় চড়ে
নিঝুম দেশের ওই পাষাণপুরে।
মাকড়সার জালে বেঁধে নেবো ছোট্টো কুঁড়ে
গাছের বাকল পরবো ওগো শান্ত লয়ে,
টিয়ার ঠোঁটে সূঁচ বানাবো, সুতো শ্যামা লতে ।
লোভ রিপু ভয় পাবেগো মোদের ব্যবহারে
মোহকে মোরা চাপা দেবো পাষাণের ওই স্তুপে ।
বৈরাগ্য সাধনে মুক্তি লব,বেবাক দেশের বুকে
ষড় রিপুর আলিঙ্গন সেথা শীতল ভীষণ আগে।
ইন্দ্রজিৎ নামকুড়বো দুই মুঠি ভরে
মুক্তি লব এই ভুবনের আমার আমিত্ব হতে ।
চলো যাই, রূপকথার ওই কল্প সরোবরে
নাইবো সেথায় যৌবন নয় নির্মল মন যেচে,
দেহের এই মলিনতা ধুবোগো ওরেই জলে।
মাটির গান শুনবো সেথায় বোবা পাষাণ মুখে
এই ভুবনের রোষারোষি থাকনা অনেক দূরে,
মুক্তি তুমি এসো হে সেথা সাহসি দাম্ভিক পদে।

অলংকরণ : প্রমিত নন্দী

অযাচিত

চিন্ময় মহান্তী


প্রথম পরিচ্ছেদ

দ্বিপ্রহর হইতে সারাক্ষণ বৃষ্টি ঝরাইয়া মেঘগুলি কাজল বর্ণ হারাইয়া শুভ্র শ্বেত বর্ণ ধারণ করিয়াছে, তাহাদের উজ্বলতা হইতে কিরণ আসিয়া বর্ষণ ধৌত ধরিত্রী বক্ষের ঔজ্জ্বল্য স্বল্পমাত্রায় বাড়িয়া উঠিয়াছে; ইহা সকল লোকের নিকট ‘কনে দেখা আলো’ নামে বহু পূর্বকাল হইতেই পরিচিতি পাইয়াছে। কিঞ্চিত অদূরে সন্ধ্যাকাল অপেক্ষারত রহিয়াছে, সময় আসিলেই আপন স্থান লইয়া লইবে।

এমত সময়ে সুখেন কোথা হইতে আসিয়া উঠানের এক অঙ্গুলি কাদা সুকৌশলে অতিক্রম করিয়া ঘরে ঢুকিল, দেখিল তাহার বধূ দীপা মেঝের মধ্যিখানটিতে বহুল ব্যবহারে জীর্ণ মাদুরিটি পাতিয়া লইয়া শুইয়া রহিয়াছে। এই অকাল শয়ন দেখিয়া সে খানিক বিস্মৃত হইয়া বধূর শিয়রে মাদুরির একটি কোনা দখল করিয়া বসিল, জানিতে চাহিল, “দীপা তোমার কি হয়েছে ?” প্রত্যুত্তরে দীপা লজ্জিতা মুখটি বিপরীত পানে ফিরাইয়া লইল। সুখেন ইতস্তত ছড়াইয়া ছিটাইয়া থাকা বধূর কেশরাশির উপর আঁকিবুকি কাটিতে কাটিতে পুনরায় জানিতে চাহিল, “তোমার কি হয়েছে ?” দীপা এইবার উত্তর করিল, লজ্জিতা ওষ্ঠটি মৃদু কাঁপাইয়া বলিল, “তোমার মায়ের কাছে জানবে যাও।” সুখেন বুঝিতে পারিয়াছে তথাপি আপন বধূর মুখ হইতে শুনিতে ইচ্ছা করিতেছিল। তাহার সেই ইচ্ছা পূর্ণ হইল না। নারীজাতির সর্বশ্রেষ্ঠ অলংকার লজ্জা, তাহা দীপার বদন হইতে বিচ্যুত হইল না।