উপন্যাস
Showing posts with label উপন্যাস. Show all posts

সেবারও আগুন জ্বলেছিল ● সহস্রাংশু গুহ


 

জটিল, বড়ই জটিল মানুষের চিন্তাধারা। শৃঙ্খলার নাগপাশে নিষ্পেষিত হয়েও বারংবার সে ছুটে যেতে চায় মুক্তির সন্ধানে। আক্রমণাত্মক শ্বাপদের সম্মুখে স্থাণুবৎ মার্জার থেকেও মানুষের চিন্তাধারায় প্রবাহিত হয় ভয়কে জয় করবার বাণী। যে কাহিনী আজ ব্যক্ত করতে বসেছি তারও উত্থান এমনই এক চিন্তাধারা থেকে। যে নায়কের মস্তিষ্কে সেই চিন্তাধারার উন্মেষ হয়েছিল, ইতিহাস সেই নায়ককে ঠেলে দিয়েছে বিস্মৃতির অন্ধকারে। এই এক বড় দোষ ইতিহাসের। উজ্জ্বল নক্ষত্র নিকটবর্তী হলে তা যেমন ম্লান করে দেয় উজ্জ্বলতর কিন্তু দূরবর্তী নক্ষত্রকে ঠিক তেমনি বিবিধ নায়কের কাহিনী মনে রাখতে গিয়ে ইতিহাসের পাতা থেকে কোন অন্ধকারে হারিয়ে গেছে একদা দেব জ্ঞানে পূজিত আমাদের কাহিনীর নায়ক।

বৃক্ষমানবী ● পৃথ্বীশ গজী


 

স্পেসশিপটা নিয়ে নিচের দিকে নামতে নামতে অ্যারনি বুঝতে পারলেন তাঁর ধারণাই ঠিক। এই নীল রঙের গ্রহটাতে যে প্রাণের উদ্ভব হয়েছে, সেটা বলে দেয় সমুদ্রতীরে সার বেঁধে দাঁড়ানো গাছগুলো। এই গাছগুলো তাঁর অচেনা। চোখের দৃষ্টিকে নিচের দিকে আরও অনেক দূর অবধি প্রসারিত করলেন অ্যারনি। আগে এই কাজটার জন্যে স্পেসশিপের অত্যাধুনিক দূরবীক্ষণ যন্ত্রটার সাহায্য নিতে হলেও, এখন খালি চোখে ওই যন্ত্রের থেকে বেশি পরিষ্কার দেখতে পান তিনি। সমুদ্রের গা ঘেঁষে কয়েক হাজার বর্গ কিলোমিটার জুড়ে যে বিশাল স্থলভাগ তাঁর নজরে পড়ছে সেটার পুরোটাই সবুজে মোড়া। বেশ কিছু বিশালাকৃতি ভয়ংকর জীব সেই অরণ্যে ঘুরে বেড়ালেও তাদের দেহের তুলনায় মাথাটা নেহাতই ছোট। মস্তিষ্কের চর্চা তার মানে এদের মধ্যে নেই! তাছাড়া এই বিস্তৃত অঞ্চলের কোথাও চোখে পড়ছে না সভ্যতার বিন্দুমাত্র নিদর্শন।

শ্রেষ্ঠ = সমাপ্তি - রুমেলা দাস

উপন্যাস
১
এপ্রিল, ২০২০

‘তাহলে কি আর কোনও উপায়ই নেই স্যার? আমাদের... আমাদের সমস্ত পরিকল্পনা কি এভাবেই...? মানুষগুলো একের পর এক মুড়ি মুড়কির মত পটাপট করে মরে যাচ্ছে। কেউ বাঁচাতে পারছে না। বিদেশের হাল দেখেছেন নিউজ চ্যানেলে? রাস্তায় মৃতদেহ পড়ে রয়েছে। নিজের আত্মীয়রাও ছুঁয়ে দেখছে না। আর সেখানে আমাদের দেশের তো মেডিকেল স্ট্রাকচার-ই জিরো। একবার কমিউনিটি স্প্রেড শুরু হলে থামানো খুব একটা সহজ কাজ হবে বলে মনে হচ্ছে না।

খেলা শেষ? - সায়নদীপা পলমল

উপন্যাস
১

পড়ন্ত বিকেলের লাল শামিয়ানাটার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে দিয়া। মাঝে মাঝে এক দুটো পাখি শামিয়ানা ভেদ করে ছুটে চলেছে বাড়ি ফেরার তাগিদে, দিয়া চিনতে পারে না ওদের, দূর থেকে সবাইকে কালো দেখায়। না চিনতে পারলেও দিয়া জানে ওরা ঠিক বাড়ি ফিরে যাবে আর কিছু পরেই, কিন্তু দিয়া!

বাড়ি বলতে ঠিক কী, দিয়া আজ অবধি সেই মানে বুঝতেই ব্যস্ত। বাবার ট্রান্সফারের চাকরি, ছোটবেলার থেকেই তাই ভবঘুরে জীবন দিয়ার। মাঝে মাঝে খুব লোভ হয় ওর, একটা বাড়ি থাকবে যার প্রতিটা কোণায় জড়িয়ে থাকবে ওর পাঁচ বছরের স্মৃতি, দশ বছরের স্মৃতি, বিশ বছরের…

শ্রোডিঙ্গারের ঐশ্বরিক বিড়াল - মোহাম্মদ সাইফূল ইসলাম

উপন্যাস
অধ্যায় এক
২০৮১, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, টিচার্স কোয়াটার

“আরে ভাই কেন শুধু শুধু বিরক্ত করছেন? আর কতবার বলবো আমার কাছে সেই রিসার্চের আর কোনও ভার্সন নেই। যে কপিটি ইউনিভার্সিটির তদন্ত কমিটিকে দেওয়া হয়েছিলো সেটিই ফাইনাল ভার্সন। কয়েকদিন পরপর ফোন দিয়ে সেই একই ঘ্যানঘ্যান করেন! বিরক্তিকর!”

ফোনের অপর পাশ থেকে অচেনা কণ্ঠটি বলে, “আমরা নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে খবর পেয়েছি আপনার কাছে আরেকটি ভার্সন আছে। দেখুন, আপনি যতো টাকা চান আমরা দিতে প্রস্তুত। আমাদের স্যার টাকা পয়সা নিয়ে চিন্তা করেন না। আপনি…”

AU REVOIR - সায়ন্তনী পলমল ঘোষ

উপন্যাস
পূর্বকথা

স্বচ্ছ দেওয়ালের ওপারে তাকিয়ে ছিলেন দীর্ঘকায় পুরুষটি। হাজার হাজার জোনাকির মত আলোকরাজিতে সেজে উঠেছে রাতের শহর। আকাশে হাজার হাজার নক্ষত্ররাজি নিশ্চিন্তে বিশ্রামরত। বুদ্ধিদীপ্ত চোখ দুটো বাইরের দিকে তাকিয়ে থাকলেও মাথার মধ্যে অনেক হিসেব নিকেশের কাটাকুটি আর কান দুটো সজাগ হয়ে শুনছে ঘরের মধ্যে উপস্থিত দ্বিতীয় ব্যক্তির কথা। কথা না বলে পরিকল্পনা বলাই ভালো। কথা শেষ করে দ্বিতীয় ব্যক্তি প্রথম ব্যক্তির দিকে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। হয়ত তাঁর মনের খবর বোঝার চেষ্টা করতে লাগল। কয়েক মুহূর্ত পর প্রথম ব্যক্তি দ্বিতীয় ব্যক্তির দিকে ফিরে তাকালেন। মুখে ব্যঙ্গাত্মক হাসির আভাস।

ভুতুমের ঝিঁঝিভূত - সাম্য দত্ত

হাসির উপন্যাস

অলংকরণ - মিশন মন্ডল

একে তো রোগাপাতলা শরীরটা দিয়ে উইকেটের অর্ধেক‌ও আড়াল হয় না, তায় ঢাল-তলোয়ারবিহীন নিধিরাম সর্দার! গ্লাভস নেই, হেলমেট নেই, এমনকি অন্ধের যষ্টি একখানা ব্যাট‌ও নেই---- ব্যাটিং ক্রিজে দাঁড়িয়ে থরথর করে কাঁপছিল ভুতুম। একটা বল, যা হোক করে এই একটা বল পার করতে পারলেই আজকের মতো নিশ্চিন্দি!

বাসিতান পেনিনসুলা - রনিন

ফ্যান্টাসি উপন্যাস

অলংকরণ : সুমিত রায়

ঘোষণা: জলের তলায় লুকিয়ে থাকে প্রকৃতির সম্পদ। সেই সম্পদের হাতছানিতে সাড়া দিতে বহু মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়েছেন সমস্ত বিপদকে অগ্রাহ্য করে, বছরের পর বছর অভিযান চালিয়েছেন এইসব দুর্গম জলজ এলাকায়। অনেকেই সফল হয়েছেন, ফিরে এসেছেন নতুন আবিষ্কারের আনন্দ নিয়ে।

অব্যক্ত প্রেম - দেবদত্তা ব‍্যানার্জী

রহস্য উপন্যাস

অলংকরণ - মিশন মন্ডল
(১)

রাস্তাটা পাহাড়কে পাক খেয়ে উঠতে উঠতে, আসতে আসতে বেশ সরু হয়ে গেছিল। সামনেই একটা বেশ পুরানো কাঠের সেতু। গাড়িটা পার হওয়ার সময় মচমচ করে আওয়াজ করে দুলে উঠেছিল ভয়ংকরভাবে। জিনিয়া একটু চমকে উঠে বাইরে তাকিয়েছিল।

বৈভব দত্তের ডায়েরি - বিভাবসু দে

রহস্য উপন্যাস

অলংকরণ - মিশন মন্ডল
(১)

‘বড় ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম, জানেন? বড় ক্লান্ত। ভালো মানুষ, ভালো ছাত্র, ভালো ছেলে, এমন আরও অনেক অনেক ভালো-র ভিড়ে কেমন যেন দম বন্ধ হয়ে আসছিল। বড্ড হাঁপিয়ে উঠছিলাম। তাই একদিন লোকটাকে খুন করে ফেললাম।’

বিপত্তারণের বিপদ - কর্ণ শীল

হাসির উপন্যাস

অলংকরণ : কৃষ্ণেন্দু মন্ডল
এক

ভোরের দিকে ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা হাওয়াটা বেশ আসছিল। পাশ ফিরে বালিশটা চেপে ধরতেই জানালা ঘেঁষে কেউ খুব স্পষ্ট উচ্চারণে বলে উঠলো, ক্লেশ।

এত জোরালো সে উচ্চারণ, যে বিপত্তারণ ধড়মড় করে উঠে বসলো। ঘুমের একদম গভীর থেকে সরাসরি জাগরুক অবস্থায় পৌঁছে গেছে সে।

উত্তম পুরুষ - সায়ন্তনী পলমল ঘোষ

রহস্য উপন্যাস

অলংকরণ - মিশন মন্ডল

আজ অমাবস্যা। আমার অমাবস্যা একদম ভালো লাগে না। আকাশটা কেমন কালো চাদর পেতে শুয়ে যায়! আমি ভালোবাসি চাঁদ। পূর্ণিমার দিন যখন আকাশের গোল থালার মত চাঁদটা থেকে জ্যোৎস্না চুঁইয়ে চুঁইয়ে পড়ে তখন আমি মাদুর পেতে ছাদের ওপর শুয়ে জ্যোৎস্না মাখি আর, আর তার কথা ভাবি।

শতরঞ্জ - জাকিউল অন্তু

ফ্যান্টাসি উপন্যাস

অলংকরণ - মিশন মন্ডল

পুরান ঢাকার এক চিপাগলিতে এমন অসাধারণ একটা এন্টিক শপ খুলেছে দেখলে বিশ্বাস হতে চায় না। এ যেন গোবরে পদ্মফুল। যদিও এন্টিক বা প্রাচীন শব্দটার সাথে পুরান ঢাকার পুরান শব্দটা খুব মানায়। তবু ঢাকার এইদিকটা পুরাতন রসনা বিলাস নিয়েই পড়ে আছে।

পাপ - পৃথ্বীশ গজী


বি. দ্র.- এই লেখার কিছু অংশের বিবরণ ও ভাষা সব ধরণের পাঠকের উপযুক্ত নয়।
১

রাহুল অফিসে বেরিয়ে যেতেই ব্যালকনিতে এসে দাঁড়াল যূথিকা।

গতকাল রাত থেকেই আকাশের মুখ ভার। সঙ্গে বৃষ্টিও হচ্ছে অবিরাম। সকালবেলা বৃষ্টির বেগ একটু কমলেও পুরোপুরি ধরেনি এখনও।

এরকম দিনে তাদের স্কুলে খুব বেশি ছেলেমেয়ে আসে না । আর কচিকাঁচাগুলো না থাকলে গোটা স্কুল বিল্ডিংটাই প্রাণহীন লাগে তার। এদিকে জুলাই মাস পড়ে গেলেও যূথিকা এই বছরে একটাও ছুটি নেয়নি।

অশ্বিনী ভবনের রহস্য - অভিষেক মিত্র

(১)

রবিবার দিন সাধারণত আমি একটু দেরী করেই ঘুম থেকে উঠি। সারা সপ্তাহের ক্লান্তি একদিনের ঘুমেই পুষিয়ে নিই। রোজ ভোর বেলা উঠে স্কুল আর বিকেলে পড়তে যাওয়ার ফাঁকে কোথায় যেন ঘুমের একটু ঘাটতি থেকে যায়। এই রবিবারটা তাই আমার ঘুমের দিন। কিন্তু আজ যদিও আমি বেশ তাড়াতাড়িই উঠে গেলাম। তার দুটো কারণ। এক আমার পরীক্ষা শেষ, তাই এখন দেড় মাস ছুটি, তাই ঘুমিয়ে ছুটি কাটানোর কোন মানেই হয় না।

মারাং বুরুর শাপ - প্রলয় কুমার নাথ

অলংকরণ : সুমিত রায়
(১)
সাল ১৯৪৫

গোধূলির শেষে সন্ধ্যার অন্ধকার ঘনিয়েছে চারিদিকে। এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতা বিরাজমান পুরোনো মন্দিরটির চারিপাশে। এই জনমানবশূন্য বন্য-প্রান্তরের মাঝে যতদূর চোখ যায়, নজরে আসে শুধুমাত্র একজন সুপুরুষ দীর্ঘদেহী ব্যক্তিকে। শুভ্র পোশাক পরিহিত এই ব্যক্তি একান্তে ভগ্ন দেবালয়ের ভেতর কালীমূর্তির সামনে সন্ধ্যা-আরতি দিতে ব্যস্ত।

মহাবিশ্বের ওপার হতে - বিশু দাস

অলংকরণ - মূল প্রচ্ছদ

দু হাত দূরে নজর চলে না এমন ঘন কুয়াশা। এমনি দিনে দেখা দিলো সেই ভয়াবহ অবস্থা।

সারাটা বিকেল ঘন কুয়াশা সাপের মত পাকিয়ে পাকিয়ে এসে জমা হতে লাগলো গোলা বাড়ীটার চারপাশে। ঘরের মধ্যে কেমন একটা ভিজে স্যাঁতস্যাঁতে ভাব। দরজার ফাঁক দিয়ে কুয়াশার রেখা ঘরের ভেতরে এসে নামছে নিঃশব্দ সরীসৃপের মত, তার বিশাক্ত জিভের ছোঁয়া এসে লাগছে মাথার চুলে। ভিজে ভিজে যাচ্ছে চুলগুলো।

যামল - সুমিত বর্ধন

অলংকরণ : সুমিত রায় ও মিশন মন্ডল
ভূমিকা - পৃথিবী - একত্রিংশ শতাব্দী

পাণ্ডুর চাঁদ আলো দেয় সামান্যই, মাঠে বসানো রোশনি স্তম্ভের মধ্যেও অর্ধেক অকেজো হয়ে পড়েছে। সেই আলো আঁধারির মধ্যে একটা দানবিক ডাইনসোরের মতন দাঁড়িয়ে থাকে ল্যাণ্ডারটা। তার সামনের অংশ থেকে নিঃশ্বাসের মতন বেরিয়ে আসে বাষ্পের কুণ্ডলী।

ল্যাণ্ডারের একপাশ থেকে বেরিয়ে আসা র‍্যাম্পের দিকে মাঠের মধ্যে দিয়ে দৌড়য় আতঙ্কিত মানুষের দল। মাঠের চারপাশে লাগানো কাঁটা তারের বেড়া পার হয়ে তাদের দিকে মাঝে মধ্যেই ছিটকে আসে এনার্জী অস্ত্রের আলোক রেখা।

নিঝুম দ্বীপের রাজকুমার - রনিন

অলংকরণ - পার্থ মুখার্জী

(প্রখ্যাত চিত্র পরিচালক ‘স্যর’ ম্যালকম রসের সহকারী কেন কোবার্নের লাইব্রেরি থেকে উদ্ধারকৃত একটি ডায়েরির কয়েকটি ছেঁড়া পাতা থেকে আহৃত আখ্যান—ম্যালকমকে পাঠানো ইংরেজি অনুবাদের আসল প্রতিরূপ।)

2nd April, 2088

(সময়ের হিসেব মেঘনাদ সেন এবং বৃতি সেনের তৈরী ‘সমান্তরাল সূর্যঘড়ি’ অনুসারে (হ্যাঁ, বাবা এবং মা, সত্যি ওটা নির্ভুল সময়ের হিসেবে দেয় এখনও!)

মন খারাপ।

হ্যাঁ, আজ আমার মন খারাপ।

এক যে ছিল রাজা - দেবলীনা চট্টোপাধ্যায়

অলংকরণ : সুমিত রায় ও মিশন মন্ডল
(১)

সন্ধ্যে নামছে জঙ্গলের কোণায় কোণায়। পশ্চিমে আকাশ জুড়ে রঙের খেলাও প্রায় শেষের পথে, ঘন কালো রঙের পাতলা চাদর নেমে আসছে পৃথিবীর বুকে। অতন্দ্র প্রহরীর মতো দাঁড়িয়ে থাকা বিশাল গাছগুলোর বেষ্টনী এড়িয়ে দ্রুত এগোচ্ছিল লোকটা। দক্ষিণে নদীর দিক থেকে একটা ভেজা দামাল হাওয়া ছুটে এসে ছোট্ট শিশুর মতো কচি হাতের পরশ বুলিয়ে দিচ্ছে চোখে মুখে।