দ্বৈতা হাজরা গোস্বামী
Showing posts with label দ্বৈতা হাজরা গোস্বামী. Show all posts

তিনতলার ঘর - দ্বৈতা হাজরা গোস্বামী

অলংকরণ - রুমেলা দাস

হোস্টেলে ঢুকেই জানতে পারলাম কেবলমাত্র তিনতলার ৩০৫ নম্বর ঘরটাই খালি আছে। হোস্টেল পাওয়ার প্রায় এক মাস বাদে এসেছি। আসলে এখানে যে থাকবো সেটা ঠিক করতে পারিনি আগে। বোটানি তে অনার্স নিয়ে ভর্তি হয়েছি। দেরিতে আসার ফলে অনেক কথাই শুনতে হলো মেট্রনের কাছে। প্রথমে তো শুনেছিলাম ঘর খালি নেই। তারপর আমরা অনেকদূর থেকে এসেছি শুনে মেট্রন বললেন, বিভিন্ন কারণে ওই ঘরটায় কেউই থাকতে চায়না। ঘরটা তালা বন্ধ রাখা হয়েছে।

এতদূর থেকে এসে চলে যাবো? কারণ জানতে চাইলাম। মেট্রন একটু বিরক্ত হয়েই বললেন যে ঘরটার কন্ডিশন ভালো নয়। বহুদিন ওখানে কেউ থাকেনি। আর তাছাড়া যারা নতুন হোস্টেল-এ আসে তারা ডরমেটরি তে থাকে ২০ জন বা ১০ জন একসঙ্গে। কখনো কখনো ৫ জন একসঙ্গে। সিঙ্গেল রুম প্রথমেই দেওয়া যায়না। আমি অনেক জোরাজুরি করে ওই তিনতলার ঘরের চাবিটা চেয়ে নিলাম। রেসাল্ট মোটামুটি ভালোই ছিল তাই আমাদের ডিপার্টমেন্ট-এর হেড কে অনুরোধ করে ওই ঘরেই থাকার ব্যবস্থা করলাম।

চারতলা হোস্টেল। তিনতলায় ঘরটা। ঘরটা বেশ বড়। সামনে টানা বারান্দা। দুই প্রান্তে দুটো ডরমেটরি। আর বারান্দার ঠিক মাঝখানে ওই ঘরটা। এমনি দেখতে মন্দ নয়। বাগানের দিকে একটা জানলা খোলা। ঘরটার কন্ডিশন ভালো নয় সেটা সত্যি। দেওয়ালগুলোর রং উঠে গেছে। ঘর ভর্তি ঝুল, ইঁদুর, মাকড়শা, টিকটিকি। আগে ঘরটা লছমী দিদিকে ভালো করে পরিষ্কার করতে বললাম।

ঘর পরিষ্কার করতে করতে লছমী দিদি বলছিলো, “ই ঘর বহত খারাব আছে দিদি। এ ঘর বন্ধ ছিল তিন সাল।”

“সেজন্যই একটা ভ্যাপসা গন্ধ,” আমি বললাম।

লছমী দিদি চলে যাওয়ার পরে রুম ফ্রেশনার কিনে আনলাম একটা। ভালো করে চারদিকে স্প্রে করলাম। ভ্যাপসা গন্ধটা যদিও যায়নি। কিন্তু কিছুদিন রোদ হাওয়া পেলেই ঘরটা আবার স্বাভাবিক হয়ে যাবে। নিজের মনকে আশ্বস্ত করলাম।

সেইদিন সন্ধ্যে বেলা কিছু সিনিয়র দিদিরা দেখা করতে এলো।

—“এই যে নতুন মেয়ে। সামনে শনিবার সন্ধ্যেয় বড় হল ঘরে চলে আসবে। তোমার পরীক্ষা আছে।”

—“কীসের পরীক্ষা?”

—“সব নতুন মেয়েরা যে পরীক্ষা দেয় এখানে সেই পরীক্ষা।”

বুঝলাম এরা খুব একটা সুবিধের নয়। সামনে শনিবার আমার বাড়ি ফেরার আছে। ওদের সেকথা খুলে বললাম না।

বাড়ি থেকে ফিরে এলাম রবিবার রাতে। সোমবার থেকে আবার কলেজ। ফিরে এসে শুনলাম সিনিয়ররা নাকি দারুণ রেগে আছে আমার ওপরে। পাশের ডর্মেটরির সোমলতা, পিয়াসী এরা সবাই একই কথা বললো। যাই হোক আমি এখানে পড়াশোনা করতে এসেছি। সিনিয়রদের হুকুম তামিল করার জন্য নয়।

তারপর দু’দিন কেটে গেলো। এই দু’দিন ঘর সাজাতে গোছাতেই আমার সময় কেটেছে। গড়িয়াহাট মোড় থেকে একটা বড় আয়না কিনেছি। দু’তিনটে বিছানার চাদর কিনেছি দরদাম করে। এখানে রাত আটটায় খাবারের ঘন্টা বাজে। থালা আর ঘি, আচারের শিশি সঙ্গে করে নিয়ে যাই। মাঝে মাঝে ফ্লাস্কটাও। নিচের থেকে গরম জল ভরে আনি। রাত্রে মাঝে মাঝে কফি করে খাই। নতুন জায়গা। অনেক রাত অব্দি ঘুম আসেনা। পড়াশোনা করি। অন্য মেয়েদের সঙ্গে আমার ভালো আলাপ নেই। আমি আসলে চট করে কারোর সঙ্গে মিশতে পারিনা। একা একাই চলাফেরা করি। আমার কোনো ভাই বোন নেই। বাড়িতেও একা একাই বড় হয়েছি আসলে।

লছমী দিদি রোজ আমার ঘরে ঝাঁট দিতে আসে। একদিন ঘর মুছতে মুছতে বললো, “বহত বুড়া ঘর হ্যায় ইয়ে।”

প্রশ্ন করলাম, “কেন?”

“সে সব আমার শুনা কথা। আমি তো কাজে লেগেছি এক সাল হলো। আগে এ ঘরে কুছু বহত খারাব চিজ হয়েছে, এ ঘর মে আগ লগা থা বহত সাল পহেলে। দিবার কালা পড় গেয়া ইসলিয়ে। এ ঘরে আপনি থাকবেন না দিদি।”

এখানে আসার পর থেকে কেমন যেন মনে হচ্ছে এই ঘর, সামনের বারান্দায় আরও কেউ থাকে।

সেদিনটা ছিল কোনো একটা সোমবার। আমার কলেজের ক্লাসরুম থেকে আমার হোস্টেলের ঘরের জানলাটা দেখা যায়। ক্লাসের মাঝে হঠাৎ দেখলাম আমার ঘরের জানলা দিয়ে ধোঁয়া দেখা যাচ্ছে। আমি প্রথমে খেয়াল করিনি। আমার ব্যাচের দিশাই দেখালো। চরম আতঙ্কে পড়ি কি মরি করে ছুটলাম। তিনতলায় ঘর। দৌড়ে দৌড়ে সিঁড়ি গুলো বেয়ে উঠতে লাগলাম। ঘর তালা বন্ধ। ব্যাগ থেকে চাবি বের করে তালা খুলে ভেতরে ঢুকতেই দেখলাম সব কিছু যেমন কে তেমনই আছে। কোনো আগুন নেই। তাহলে কি আমার মনের ভুল? কিন্তু একটা অদ্ভুত অনুভূতিতে আমার সারা শরীর কেঁপে উঠলো। ঘরের বাতাস এরকম গরম কেন? শুধু তাই নয়, বাতাসে একটা পোড়া পোড়া গন্ধ ভেসে বেড়াচ্ছে।

সেদিন কলেজ-এ ফিরিনি। বিকেলের টিফিন খেয়ে আবার ঘরে ফিরে এসেছিলাম। পোড়া গন্ধটা আর ছিলোনা। ঘরের বাতাসও স্বাভাবিক।

তারপর অদ্ভুত সব ঘটনা ঘটতে শুরু করলো। প্রায়ই রাতে আমার ঘরের দরজায় কে নক করে। দরজাটা খুলে আর কাউকে দেখতে পাইনা। একদিন দেখেছিলাম এক সিনিয়রকে করিডোর দিয়ে হেঁটে যেতে। আরেকটা ঘটনা কিছুদিন পরেই ঘটলো। দিনটা রবিবার, কলেজ ছিলো না। স্নান সেরে ঘরে ঢুকতেই দেখি পুরো ঘরময় হেনার গন্ধ। যেন কেউ হেনা শ্যাম্পু ব্যবহার করেছে। আমি তো এই গন্ধের শ্যাম্পু ব্যবহার করিনা। গন্ধটা এলো কোথা থেকে এমন ভাবছি। হঠাৎ চোখ পড়লো আয়নার সামনে একটা চিরুনি রাখা। সেটা আমার চিরুনি নয়। বেশ পুরোনো কাঠের চিরুনি। কয়েকটা চুল আটকে আছে তাতে। মাথা নিচু করে ভালো করে চিরুনিটা হাতে নিয়ে দেখছি যেন মনে হলো পেছনে কেউ এসে দাঁড়িয়েছে। ঘাড়ে তার নিশ্বাস পড়ছে। সামনে রাখা আয়নায় কার ছায়া। পেছনে ফিরতেই কাউকে দেখতে পেলাম না। দরজা দিয়ে একটা দমকা হাওয়া এলো পেছনের জানলাটা হঠাৎ দুম করে বন্ধ হয়ে গেলো। আমার শরীরে একটা শিরশিরে কাঁপন ধরানো অনুভূতি হতে শুরু করলো। আমি মনে মনে যুক্তি খাড়া করলাম সবই আমার মনের ভুল। সিনিয়র-দের ই কারচুপি এইসব আমাকে ভয় দেখানোর জন্য। মনের ভয়টাকে রাগে পরিবর্তন করে তখনই হোস্টেল সুপার-এর কাছে অভিযোগ করবো মনস্থ করলাম। হোস্টেলের নতুন সুপার ম্যাম কয়েক মাস হলো এসেছেন। তিনি কমবয়সী হলেও তাকে এমনিতে সকলেই ভয় পায়। আমার সব কথা শোনার পর ওঁকে একটু বিচলিত দেখালো। সিনিয়র দিদিদের উনি কমন রুমে ডেকে পাঠালেন। সবাই সেখানে জড়ো হলে, উনি বললেন, যে বা যারা আমাকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করেছে তারা যেন আজকের মধ্যে ওঁর ঘরে এসে সেটা স্বীকার করে। নইলে উনি অভিভাবকদের কল করতে বাধ্য হবেন। আর প্রিন্সিপালকেও জানাবেন। এই হোস্টেল-এ এই রকম ব্যবহার একেবারেই চলবেনা।

সুপারের ধমকে কাজ হয়েছিল। তনিমাদি আর শ্রীতমাদি নিজের দোষ স্বীকার করে। লছমী দিদিকে কিছু টাকা দিয়ে ওরাই আমাকে ভয় দেখানোর জন্য গল্প বলতে বলে। ওই ঘরে একটা দুর্ঘটনা ঘটেছিলো ঠিকই আর তা নিয়ে অনেকের ভয়, কুসংস্কার আছে। সেটারই সুযোগ নিয়ে ভয় দেখানোর চেষ্টা। ঘরের যে তালা আমাকে দেওয়া হয়েছিল তার একটা ডুপ্লিকেট চাবি মেট্রনের কাছে থাকে। সেটা ওরা কোনোভাবে সরিয়েছিলো। সেদিন ওরা আমার ঘরে কাগজ পুড়িয়েছিল আর আমার ক্লাসের দিশাকে বলেছিলো বিশেষ সময়ে আমাকে জানলা দিয়ে ধোঁয়ার দৃশ্যটা দেখাতে। এছাড়া ওই চিরুনি রেখে আসা দরজায় ধাক্কা দেওয়া সব ওদেরই কাজ। কিন্তু একটা খটকা মন থেকে গেলো না। সেটার কথা ম্যামকে বলিনি। একটা ডাইরি পেয়েছি খাটের তলায়। তাতে পাতার পর পাতা একজনের মনখারাপের দিনলিপি। এটাও কি মিথ্যে? সাজানো?

ডাইরিটা আমি কয়েকটা পাতা পড়েছি। আবার রাত্রিবেলা ওটার অমোঘ আকর্ষণ আমাকে পেয়ে বসলো।

প্রত্যেক পাতায় তারিখ দিয়ে লেখা

“৬ নভেম্বর ১৯৯০

আমার কিছু ভালো লাগছে না। বাড়িতে ফোন করলেই সেই এক কথা শুনতে হয়। দিদি স্কলারশিপ পেয়েছে। দারুণ রেসাল্ট করেছে। আর তুই? এবার মিডটার্ম-এ এতো কম নম্বর । আমাদের মান সম্মান সব ডুববে তোর জন্য। এতো খরচ করে হোস্টেল -এ রেখে পড়ানো হচ্ছে তোকে। আমার খুব কান্না পাচ্ছে, খুব কান্না পাচ্ছে। আমাকে কেউ ভালোবাসে না”

পাতার পর পাতা সেই এক মন খারাপের কথা। পড়তে পড়তে কখন যেন ঘুমিয়ে পড়েছি। হঠাৎ ঘুমটা আচমকা ভেঙে গেলো। দেখি ঘরের লাইট অফ হয়ে গেছে। তবে কি লোডশেডিং? কিন্তু দরজার ফাঁক দিয়ে বাইরের আলো দেখা যাচ্ছে। গা টা ছম ছম করে উঠলো। ক’টা বাজে এখন? মোবাইল-টা হাতে নিয়ে দেখলাম রাত ১২ টা। দরজাটা বন্ধ ছিল। দরজায় একটা মৃদু ঠকঠক করে টোকা দেওয়ার আওয়াজ হলো। ঘরের লাইটটা জ্বালানোর চেষ্টা করলাম। জ্বললো না। হতবুদ্ধির মতো মোবাইলটা হাতে নিয়ে দরজাটা খুলে দেখলাম সেই কয়েকদিন আগে দেখা সিনিয়ারটিকে। ফর্সা গায়ে কালো নাইটি। করিডোর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে। আমি পেছন পেছন এগোলাম। সব কিছুর একটা সীমা আছে। সে এগিয়ে গেলো বাথরুমের দিকে আমিও তার পিছু পিছু এগোলাম। বাথরুমের বেসিনের সামনে গিয়ে দাঁড়ালো সে। আমি পেছনে দাঁড়িয়ে জোর গলায় বললাম, “তোমরা আবার এইসব উৎপাত শুরু করেছো। আমি এবার ডাইরেক্ট প্রিন্সিপালের কাছে যাবো।”

সে আমার দিকে না তাকিয়েই আস্তে আস্তে বললো, “অন্যের ডাইরি পড়তে নেই।”

আর আমাকে চমকে দিয়ে তার মাথা আমার দিকে ঘুরে গেলো শরীরটা স্থির রেখেই। আমি চিৎকার করে উঠতেই দেখি আমি আমার ঘরেই বসে আছি কোলের ওপর সেই ডাইরিটা।

পরের দিনই আমি অন্য জায়গায় থাকার ব্যবস্থা করি। সেই ডাইরিটা আমি যেখান থেকে কুড়িয়ে পেয়েছিলাম সেখানেই রেখে দিয়েছিলাম। পরে শুনেছিলাম ওই তিনতলার ঘরে কী করে যেন আগুন লেগে গিয়ে একজন ছাত্রী মারা যায় অনেকদিন আগে। সেই দুর্ঘটনা ইচ্ছাকৃত কি-না তা অবশ্য জানা যায়নি। ওই তিনতলার ঘরে থাকার সময় যেন প্রতি মুহূর্তে মনে হতো কোনো অদৃশ্য মনখারাপের চিহ্ন লেগে আছে ঘরটায়। এখানে যেন অন্য কেউ থাকে। আমি ভুল করেই ঢুকে পড়েছি তার জায়গায় যে কিনা খুব একা, পৃথিবীতে যাকে কেউ ভালোবাসেনা। এর পর আর কারোর ডাইরি কোনোদিন পড়িনি।

কামধেনু

কামধেনু
দ্বৈতা হাজরা গোস্বামী
অলংকরণ - রুমেলা দাস


নন্দী শুয়ে শুয়ে আকাশপানে চেয়ে একমনে ঘাস চিবোচ্ছিলো। আহা কী স্বাদ। স্বর্গে এমন কচি কচি মিষ্টি ঘাস নেই। অমনি ভৃঙ্গী ছুটতে ছুটতে এসে বললো, “সব্বোনাশ হয়েছে। ঘোর সব্বোনাশ! কামধেনু খোওয়া গিয়েছে।”

নন্দী সেই কথায় তড়াক করে লাফিয়ে উঠে বললো, “ সে কী রে। এবারে বাবাকে মুখ দেখাবো কেমন করে? জমদগ্নি তো ভস্ম করে দেবেন। গোলকধামে শোরগোল পড়ে যাবে।”

ভৃঙ্গী কাঁদো কাঁদো মুখ ভেঙ্গিয়ে বললো, "তোর জন্যই তো হলো এমন। সক্কাল সক্কাল বাবা কে গিয়ে বললি কামধেনুর জিভে চড়া পড়ে গেছে তার একটু স্বাদবদল দরকার। যাই মর্ত্যে গিয়ে গরু চড়িয়ে আসি। বাবা তো সকাল সকাল ভাঙের মৌতাতে ত্রিনয়ন মুদে বসেছিলেন। অমনি তোকে পারমিশন দিয়ে দিলেন।”

চুক চুক চুক শব্দ করে নন্দী মাথা নাড়লো। তারপর কটমট করে ভৃঙ্গীর দিকে তাকিয়ে বললো, “তা তুই কি করছিলিস। আটকাতে পারলিনা?”

“তোর যেমন বুদ্ধি, কামধেনুকে কেউ কোনোদিন আটকাতে পেরেছে। ও তো নিজের মর্জিতে চলে। তারপর মান অভিমান তিন লোকের মেয়েদের থেকেও বেশি। হঠাৎ করে চোখের সামনে থেকে অদৃশ্য হয়ে গেলো। আমি তারপর কত্ত ডাকলাম, ধেনু।..কাম কাম কাম। গোলা ভরা পান দেব, বাটা ভরা ধান দেব। কিছুতেই এলো না।”

নন্দী বললো, “বাবা জানতে পারলে ভস্ম করে দেবে তোকে আর আমাকে। গোলোকধাম থেকে লিজে এক মহাপদ্ম বৎসরের জন্য বাবার গোশালায় রাখার অনুমতি পাওয়া গিয়েছিলো। যাতে স্বর্গবাসী-রা মনোরম বিচিত্র মিষ্টান্নের স্বাদ পায়। এবারে যে কী হবে ! তবে বেশিদূর যায়নি মনে হয়। চল একটু এগিয়ে খুঁজে দেখি।”

“সামনেই একটা গ্রাম মতো দেখতে পাচ্ছি। বাজার বসেছে। বাঁধাকপি টপি দেখতে পেয়ে ঐদিকেই গেছে বোধহয়। আগে গ্রামবাসীদের মতো পোশাক চাই। তারপর এক কাজ কর তুইও ডাক আমিও ডাকি। ডাকতে ডাকতে পথ হাঁটি।”

দুজনে মিলে এইভাবে গ্রামের রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াতে লাগলো।

নন্দী ডাকে, “সুরভী”, ভৃঙ্গী ডাকে, “সুরভী”

তারপর দুজন একসঙ্গে গলা মিলিয়ে ডাকে, “ সুরভী ই ই ই ই”

হঠাৎ একটা লোক ঘরের দরজা খুলে বেরিয়ে এলো। বেশ লম্বা চওড়া অসুরসুলভ চেহারা। বেরিয়ে এসে নন্দী ভৃঙ্গীকে আপাদমস্তক দেখে বললো, “সুরভী ঘুমোচ্ছে। কী দরকার ?”

ভৃঙ্গী বললো, “এতো বেলা করে সুরভী কক্ষনো ঘুমোয় না। সুরভী কে নিজের ঘরে রাখার আপনার কোনো অধিকার নেই। ওকে আমরা নিয়ে যেতে এসেছি।”

নন্দী বললো, “ঠিক। একটু অভিমানী, কিন্তু ওকে ছাড়া আমাদের চলবে না। বাবা কে কথা দিয়ে এসেছি।”

লোকটা বললো, “আচ্ছা একটু দাঁড়ান। সুরভী কে ডাকি।” তারপর ভেতর থেকে একটা ইয়াবড় বাঁশের লাঠি নিয়ে এসে তাড়া করলো। নন্দী ভৃঙ্গী তো পালিয়ে পথ পায় না।

লোকটা একটু চোখের আড়াল হতেই হাঁপাতে হাঁপাতে নন্দী বললো, “কী হলো বলতো? লোকটা হঠাৎ এমন ক্ষেপে গেলো কেন?”

ভৃঙ্গী বললো, “ ওর কাছে আমাদের সুরভী নেই। এরকম বদখত লোকের কাছে সুরভী থাকতেই পারে না।”

“তাহলে এবার কী করা যায়?” ভৃঙ্গী মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়লো। নন্দীও আকাশ পাতাল ভাবতে শুরু করলো। তারপর বললো, “একটা কাজ করলে হয়না ? থানায় একটা খবর দিলে হয়না ?”

ভৃঙ্গী বললো, “ তোর যেমন বুদ্ধি! চোর ডাকাত অব্দি এরা ধরতে পারেনা। তখন বাবার কাছে মানত করে। আর সুরভীকে খুঁজে দেবে?”

নন্দী বললো “তবুও, একটা চেষ্টা তো করা যেতেই পারে। আজ সূর্য অস্ত যাওয়ার আগে সুরভীকে যদি স্বর্গের গোশালায় পৌঁছে দিতে না পারি অনর্থ হয়ে যাবে।”

গ্রামের লোকেদের জিজ্ঞেস করে করে ঠিক দুক্কুর বেলায় ওরা থানা এসে পৌঁছলো।

ছোটবাবু বললেন, "বড়বাবুকে এখন বিরক্ত করা যাবে না। মাথা হেব্বি গরম।"

"কেন, কেন, কী হয়েছে ?"

"চল্লিশ জন ডাকাত বহু কষ্ট করে ধরেছিলেন। জেল থেকে পালিয়েছে। তারপর থেকেই মাথাটা খারাপ হয়ে গেছে।"

"আহা গো " ভৃঙ্গী চুক চুক আওয়াজ করলো মুখে।

" তোমরা তোমাদের বয়ান লিখে দিয়ে যাও। বড়বাবু ডাকলে এস।"

নন্দী-ভৃঙ্গী সেইমতো কাজ করলো। গ্রামের একটা লোককে ধরে বয়ান লেখালো।

কিছুক্ষন পরে বড়বাবু ডাকলেন," মুখার্জী, মুখার্জী "

ছোটবাবু দৌড়ে গেলেন।

বড়োবাবু চিবিয়ে চিবিয়ে বললেন, "এসব গরুর রচনা কে লিখেছে? ডাকো তাদের।"

বড়বাবুর ঘরে দুজনকে ডাকা হলে নন্দী আমতা আমতা করে বললো," আমাদের সুরভী গরু নয়।"

বড়বাবু বিস্ফারিত চোখে বললেন, “তবে কী ?”

নন্দী চাপা গলায় বললো , "কামধেনু। "

“হোয়াট !!!”

ভৃঙ্গী নন্দীকে একটা কনুই এর গুঁতো মেরে বললো। “না, আজ্ঞে ও গরুর মতোই দেখতে কিন্তু ঠিক গরু নয়। মানে যে-সে গরু নয়।”
বড়বাবু এবার দাঁড়িয়ে উঠে বললেন, “গরুর মতোই দেখতে কিন্তু গরু নয়। আমিও পুলিশের মতো দেখতে কিন্তু পুলিশ নই। আমি আলিবাবা চল্লিশ চোর যাত্রাপালার আলিবাবা। পেঁদিয়ে বৃন্দাবন দেখিয়ে দেব। ….মুখার্জী … মুখার্জী, এদের লকআপে ঢোকাও ।”

গোবর্ধন আর গোপীচাঁদ দুই ভাই। গ্রামে তাদের দুজনেরই মিষ্টির দোকান। এক দোকানের উল্টোমুখে আরেকটা দোকান। গোপীচাঁদের মিষ্টির দোকান রমরম করে চলে। ভালো ব্যবসা করে সে প্রচুর অর্থের মালিক। গোবর্ধন সিধেসাধা সরলমতি। তাকে ঠকিয়ে তার ভাই পৈতৃক বাড়িটাও হাতিয়ে নিয়েছে। কোনো মতে কষ্টেসৃষ্টে গোবর্ধনের সংসার চলে। তার মিষ্টির দোকানে বেশির ভাগ সময়েই বসে বসে মাছি তাড়াতে হয়। বেশির ভাগ খদ্দেরই ঢোকে গোপীচাঁদের প্রাসাদের মতো ঝলমলে দোকানে।

গোবর্ধনের দুটো হাড় জিরজিরে গরু আছে। গরুদুটোর নাম শ্যামলী আর ধবলী। পৈতৃক সম্পত্তি বলতে সে ঐটুকুই পেয়েছে। আর একটুকরো ধানজমি আছে। তাতে ভালো ফসল ফলে না। এ হেন গোবর্ধন যে মাঠে একটা স্বাস্থ্যবান ধবধবে সুন্দর গাই চড়তে দেখে বাড়ি নিয়ে আসবে তা বলাই বাহুল্য।

গোবর্ধনের আদর সৎকারে সন্তুষ্ট হয়ে সেও থেকে গেছে গোবর্ধনের বাড়িতে। কিন্তু তার আশ্চর্য ক্ষমতা সম্পর্কে গোবর্ধন জানতো না যদি না তার ছেলে সকাল সকাল ক্ষীর সন্দেশ খাওয়ার বায়না ধরতো। তার দোকানে পুঁচকে সাইজের রসগোল্লা আর চমচম ছাড়া এখন আর কিছুই হয় না পুঁজির অভাবে । দাদার দোকানে বিভিন্ন রকমের দেশি বিদেশী মিষ্টি, ছানার পায়েস, ছানার কেক কত্ত কী পাওয়া যায়। তাই দেখে তার একমাত্র ছেলে আনন্দ বায়না ধরেছিলো যে সে ক্ষীর সন্দেশ খাবে। জেঠুর দোকানের কর্মচারীরা তাকে গালিগালাজ দিয়ে তাড়িয়ে দেওয়ায় সে কাঁদতে কাঁদতে এসে মায়ের কোলের কাছটিতে বসেছিল। তার মা অমনি গোয়াল ঘরে গিয়ে দ্যাখে থালা ভর্তি ক্ষীরের সন্দেশ সাজানো। ছেলে তাই দেখে মহানন্দে গপগপ করে সন্দেশ খেয়ে জেঠুর ছেলে সুনন্দ দাদা কেও মিষ্টি দিতে গেলো। সুনন্দ আর আনন্দ এই দুই ভাইয়ের ভারী ভাব। গোপীচাঁদও দ্যাখে বেশ কয়েকদিন ধরে ভাইয়ের দোকানে কতরকম মিষ্টির আমদানি। সেই মিষ্টি যারাই একবার খাচ্ছে তারাই নেশাগ্রস্তের মতো বারবার খেতে চাইছে। আনন্দে তাদের চোখদিয়ে জল পড়ছে। কামধেনুর ক্ষীরের মতো দুধ থেকে তৈরী এই মিষ্টির নাম গোবর্ধন তার ছেলের নামে রেখেছে আনন্দমোহন।

ওদিকে স্বর্গে হুলস্থূল পড়ে গেছে। সাত দিন হয়ে গেলো কামধেনুর কোনো খবর নেই। নন্দী আর ভৃঙ্গী কোনো মতে থানা থেকে ছাড়া পেয়ে বিষ্ণুলোকের পথে রওনা দিলো। সাধ্যি কী মহাদেবের সামনে যাবে। নন্দী কেঁদে কেটে বিষ্ণুর পায়ে পড়ে বলে, “ আপনি তো ভগবান, আপনার কিছুই অজানা নয়। আমাদের সাহায্য করুন। নইলে অভিশাপের হাত থেকে কেউ বাঁচাতে পারবে না।”

বিষ্ণু অর্ধনিমীলিত নেত্রে মৃদু হেসে বললেন, “আমার সব কিছুই সম্যক রূপে জ্ঞাত। বিশ্ব বৈকুন্ঠ চ্যানেলে সারাদিন তো এই একটাই সংবাদ। আর তাছাড়াও আমার চোখের দৃষ্টি স্বর্গ মর্ত্য পাতাল সব জায়গায়। আমি জানি কামধেনু কোথায়। কিন্তু ভুলটা যেহেতু তোমাদের, সংশোধনও তোমাদেরই করতে হবে। জমদগ্নি তোমাদের খুঁজে পেলেই মর্ত্যের গরু, ছাগল কিছু একটা বানিয়ে দেবেন। তখন অখাদ্য, কুখাদ্য খেয়ে থাকতে হবে।”

“প্রভু !!” ভৃঙ্গী ডুকরে কেঁদে উঠলো।

“চিন্তা কোরোনা । যার কাছে কামধেনু আছে সে ভালো, সরলমতি। তোমরা একটু ভালো করে বোঝালেই সে কামধেনু ফিরিয়ে দেবে।”

বিষ্ণুর কথামতো নন্দী ভৃঙ্গী উপস্থিত হলো গোবর্ধনের বাড়ি। কামধেনুর কথা জিজ্ঞেস করতেই সে তো কেঁদে কেটে একসা। গোপীচাঁদের মারফৎ জমিদারের কানে কামধেনুর খবর যায়। জমিদার জানতেন লোক পাঠিয়ে এই দৈবশক্তি সম্পন্ন কামধেনু ধরে আনা সম্ভব হবে না। তাই তিনি গোবর্ধনের একমাত্র ছেলে আনন্দ কে লোক পাঠিয়ে ধরে আনার ব্যবস্থা করলেন। আনন্দ তখন ভাই সুনন্দর সঙ্গে খেলছিল। পরে জমিদারের পেয়াদা গিয়ে গোবর্ধনকে বলে এলো, “ এক্ষুনি তোমার কামধেনু নিয়ে জমিদারের বাড়ি দিয়ে এস। নইলে ছেলে ছাড়া পাবেনা। আর থানা পুলিশ করলে কিন্তু ছেলের হদিশই পাবে না।”

গোবর্ধন শুনেছিলো জমিদার ভবেশ মজুমদার খুব একটা সুবিধের লোক নন। থানা পুলিশ সব তার হাতের মুঠোয়। চোখের জল মুছতে মুছতে সে তার কামধেনুটিকে জমিদারের গোয়ালে রেখে এসেছে।

“বড় ভালো গাই ছিল গো দাদারা। নাম রেখেছিলাম নন্দিনী। ধবলী আর শ্যামলীর সঙ্গে খুব ভাব হয়েছিল। আমার ছেলেটাও ওকে চোখে হারাতো। সে আমাদের সোনা দানা, খাবার দাবার সব দিয়েছে। এখন কোনো অভাব নেই। কিন্তু নন্দিনীর কথা ভাবলেই মন বড় খারাপ করে। গোবর্ধন চোখ মুছলো।”

ভৃঙ্গী বললো, “যাচ্চলে! এবার উপায়! আমাদের সুরভী এখন জমিদারের গোশালায়। সে তো খুব খারাপ লোক শুনলাম।” নন্দী বললো, “ খারাপ লোক হোক আর যাই হোক। আমাদের সুরভীকে আমরা চাইবো না? চলো ভাই এক্ষুনি চলো সেখানে। আর সময় নষ্ট করা ঠিক নয়।”

তিনটে মাঠ, ধানক্ষেত, মন্দির আর বিশাল দীঘি পেরিয়ে তারা উপস্থিত হলো জমিদার বাড়ি। জমিদার ভবেশ মজুমদার তখন দুপুরের ঘুম দিচ্ছিলেন। নন্দী আর ভৃঙ্গী তার মাথার কাছে বসে কানে সুড়সুড়ি দিতে আরম্ভ করলো। চমকে জেগে উঠে তিনি বললেন – “ক কে কে তোমরা? এখানে কী করে এলে। পেয়াদারা সব কোথায় ?”

নন্দী হেসে বললো, “ কিছু চিন্তা করবেন না। সে ব্যাটাদের কায়দা করে মহাদেবের স্পেশাল ওষুধ খাইয়ে দিয়েছি। তিন ঘন্টার আগে তাদের ঘুম ভাঙবে না।”

“কী...কী চাও তোমরা?” বলে তিনি আঁতকে উঠলেন।

ভৃঙ্গী বললো, “কী চাই তুমি জানোনা ? ওই যাকে জোর করে গোবর্ধনের বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে এসেছো, আমাদের স্বর্গের কামধেনু সুরভী। ফেরত দিয়ে দাও নয়তো মহাদেবের দিব্যি এমন কাতুকুতু দেব যে হাসতে হাসতে হার্টফেল করবে।”

“ না না কিছুতেই দেবোনা। গোবর্ধন ওকে নিজের হাতে আমার গোশালায় রেখে গেছে। আমি তো কেড়ে নিই নি। আর তোমাদের জিনিস তার প্রমান কী ?”

ভৃঙ্গী বললো, “ নন্দী বুড়োটার হাত দুটো একবার ভালো করে ধরতো। রামকাতুকুতু না দিলেই নয়।”

নন্দী ধরার উদ্যোগ করতে যাবে। অমনি চারিদিকে বোমা, গুলি চিৎকারের শব্দ।

জেল পালানো সেই চল্লিশ জন ডাকাত হানা দিয়েছে জমিদার বাড়িতে।

নন্দী বললো, “ এখন জমিদারকে ছেড়ে আমাদের সুরভী কে খোঁজা উচিত। গোশালাটা কোনদিকে চল সেটা দেখি গিয়ে।”

জমিদার বাড়ির বিশাল বড় গোশালা। কত রঙের যে গরু আছে তার ইয়ত্তা নেই। কিন্তু কামধেনু একটিই হয়। তার গা থেকে আলো বেরোচ্ছিল আর আতপ চালের মতো গন্ধ। ডাকাতরা কামধেনুর কথা রাস্তাতেই শুনেছিলো। তাদের জমিদারবাড়ি আসার মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল কামধেনু। গোশালাকে ঘিরে দাঁড়িয়ে ছিল বন্দুক কাটারি বিভিন্ন অস্ত্র হাতে প্রায় কুড়ি জন। কামধেনুর দিকে এগোতেই কামধেনু একটা অদ্ভুত ডাক ছাড়লো। চারদিক কেঁপে উঠলো। কামধেনুর গা থেকে বেরিয়ে এলো শয়ে শয়ে অস্ত্র হাতে লোক। ডাকাতদের সঙ্গে তাদের ভয়ঙ্কর লড়াই হলো। ধুলোয় ঢেকে গেলো চারদিক। নন্দী আর ভৃঙ্গী চোখ বন্ধ করে দাঁড়িয়েছিল। লড়াই থামতেই তারা দেখলো ডাকাতরা সব এখানে ওখানে পড়ে আছে ছিটকে। তাদের নড়ার ও ক্ষমতা নেই। কিন্তু কামধেনু কোথায় গেলো? সে তো নেই। নন্দী আর ভৃঙ্গী দৌড়োতে দৌড়োতে নন্দিনী, সুরভী, আরও কতরকম নামে কামধেনুকে ডাকতে লাগলো। তবু তার পাত্তা নেই। মাঠের মধ্যে এদিক ওদিক খোঁজার পর তারা দেখলো দূরে দীঘির ধারে একটা লম্বা কালো মতন ছেলে বসে বসে আখ চিবোচ্ছে। কামধেনুর গায়ে ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়ে। তারা হাঁপাতে হাঁপাতে ছেলেটার দিকে দৌড়োলো।

“এই ছেলে শুনছো ?”

ছেলেটা আখ চিবোতে চিবোতে তাকাল।

“এই যে এটা আমাদের গরু। আমাদের দিয়ে দাও।”

ছেলেটা অবাক হয়ে বললো, “বা রে ওকে আমি পেয়েছি। মাঠের মধ্যে একা একা চরছিলো।”

নন্দী মুখ ভেঙ্গিয়ে বললো, “মোটেও না। বেশি পাকামি কোরো না।”

ছেলেটা বললো, “ ঠিক আছে তবে এক দান পাঞ্জা লড়ে দেখাও। যে জিতবে গরু তার।”

ছেলেটার যা রোগা-পটকা না খেতে পাওয়া চেহারা, এক্ষুনি হেরে যাবে।

ভৃঙ্গী বললো, “বেশ তো চলে এস”। ওমা ছেলেটার হাত তো নয় যেন লোহা। এক চুলও নড়ানো গেলো না। বদলে সে ভৃঙ্গীর হাতটা এমন ভাবে ফেলে দিলো যেন শোলার তৈরী।

নন্দী বললো, “কী খাও ভাই ? গায়ে এতো জোর !”

ছেলেটা সাদা সাদা দাঁত বের করে হেসে বললো, “ফ্যান খাই ভাতের।”

তিন বার, চার বার, পাঁচবারেও যখন ছেলেটাকে হারানো গেলোনা তখন ছেলেটা বললো, “চু কিত্ কিত্ খেলবে?”

নন্দী বললো, “থাক ঢের হয়েছে।”

ছেলেটা এবারে আকাশ ফাটিয়ে হা হা হা করে হাসতে শুরু করলো। তারপর বললো, “ মূর্খের দল। বৈকুন্ঠ চললাম। কাল সুরভীকে কৈলাসে দিয়ে এস মনে করে।” বলে নন্দী-ভৃঙ্গীর হাঁ করা মুখের সামনে অদৃশ্য হয়ে গেলো।