সনৎ কুমার ব্যানার্জ্জী
Showing posts with label সনৎ কুমার ব্যানার্জ্জী. Show all posts

অনন্ত প্রশ্ন - সনৎ কুমার ব্যানার্জ্জী

অনন্ত প্রশ্ন
সনৎ কুমার ব্যানার্জ্জী
কে?
কি?
কেন?
কোথায়?
কেমন করে?
কে এর জবাব দেবে?
আমি তো ভেবে পাই না এর উত্তর।
প্রশ্নগুলো আরও একটু সহজ করে বললে হয় না?
অর্থাৎ ঈশ্বর কে? চেতনার অর্থ কি? জন্ম কেন? মৃত্যুর পর আমাদের গতি কোথায় হবে?
চন্দ্র, সূর্য, গ্রহ, নক্ষত্র, নীহারিকা, নক্ষত্রনগরী, গাছপালা, পশু পাখী, কীট-পতঙ্গ, মানুষ সমেত এ বিশ্ব-চরাচরের সৃষ্টি হল কেমন করে?
বিজ্ঞানী, দার্শনিক, জ্ঞানী, ভক্ত, নাস্তিক যে যার মতন করে উত্তর খোঁজার চেষ্টা করে যাচ্ছে –
কেউ বলেন ঈশ্বর নেই, কেউ ওপরে আঙ্গুল দেখায়,
কেউ বলেন ‘খোঁজো নিজ অন্তঃপুরে’।
আমি খুঁজেই চলেছি,
অনন্ত কাল।
আজও
পাই
নি,
তা’।
ফিবোন্যাসি কবিতা

গণিতের পূর্ণসংখ্যার একটি সাধারণ অথচ বিস্ময়কর ধারার নাম ফিবোন্যাসি ধারা। এখানে প্রতিটি পূর্ণসংখ্যা তার নিকটতম পুর্ব্ববর্ত্তী দুটি পূর্ণসংখ্যার যোগফল। ধারার শুরু ০ অথবা ১ দিয়ে। উদাহরণ স্বরূপ – ০, ১, ১, ২, ৩, ৫, ৮, ১৩, ২১, ৩৪, ৫৫, ৮৯...। প্রকৃতিতে আমাদের চারপাশে এই ফিবোন্যাসি ধারা ছড়িয়ে রয়েছে। খরগোশ বা মৌমাছি বংশবিস্তার করে, বিভিন্ন বৃক্ষ শাখা-প্রশাখা বিস্তার করে এই ফিবোন্যাসি ধারা অনুসারে। এছাড়াও সূর্যমুখী ফুলের পাপড়ির বিন্যাস, আনারসের খোসার বিন্যাস, পাইনকর্নের বিন্যাস, শামুকের খোলের গঠনের মধ্যে এই ধারার অনুসরণ দেখা যায়।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লস এঞ্জেলেস শহরের জনৈক চিত্রনাট্যকার ও কবি-সাহিত্যিক গ্রেগরী কে পিনকাস ২০০৬ সালের এপ্রিল মাসে তার ব্লগে ‘দি ফিব’ নামক একটি নিবন্ধে প্রথম কবিতা লেখার এক নতুন পদ্ধতির কথা উল্লেখ করেন। তার এই নতুন কবিতা ছয় লাইনের – সর্ব্বমোট ২০ টি অক্ষর বা পদাংশ যুক্ত সম্পূর্ণরূপে ফিবোন্যাসি ধারা অনুসরণ করে। এই ফিবোন্যাসি কবিতা নিয়ে বর্তমানে নানান পরীক্ষা চলছে। অক্ষর বা পদাংশ ছাড়াও শব্দ সংখ্যা নিয়েও এই কবিতা লেখা যেতে পারে। এমন নয় যে কবিতা ছয় লাইনেই সীমাবদ্ধ থাকতে হবে। তবে লাইনের সংখ্যা বাড়লে তার সাথে সাথে অক্ষর বা পদাংশ বা শব্দ সংখ্যাও ফিবোন্যাসি ধারা অনুযায়ী বাড়তে থাকবে। তাতে কবিতা লেখাও জটিল হবে আর মনে হয় কবিতার মাধুর্যেও ঘাটতি পড়তে পারে। তার থেকে আট-দশ লাইন অবধি গিয়ে পরের লাইনগুলোতে অক্ষর বা পদাংশ বা শব্দ সংখ্যা এই ফিবোন্যাসি ধারা অনুসারে কমিয়ে নিয়ে আসা যেতে পারে। তাতে কবিতার গঠন সৌন্দর্য্যও বৃদ্ধি পায়। নিম্নলিখিত কবিতাটিতে অক্ষর সংখ্যা ফিবন্যাসি ধারা অনুসারে রাখা হয়েছে।


আবহমান

সনৎ কুমার ব্যানার্জ্জী
Pi (π) একটি গাণিতিক ধ্রুবক। এর মান – ৩.১৪১৫৯২৬৫৩৫৮………। গত তিরিশ বছর ধরে সারা বিশ্বে প্রতি বছর ১৪ই মার্চ (মাস ৩ দিন ১৪) জাতীয় Pi দিবস রূপে এটা পালিত হয়ে আসছে। ২০১৫ সালের ১৪ই মার্চ অর্থাৎ ৩/১৪/১৫ ছিল সুপার Pi দিবস। এ বছর ১৪ই মার্চ Pi দিবস উপলক্ষ্যে আবহমান কবিতাটি লেখা যার পর পর লাইনে শব্দ সংখ্যা Pi এর মান অনুযায়ী রাখা হয়েছে – প্রথম লাইনে তিনটে শব্দ আর এর পর অর্থাৎ দশমিকের পর এগারোটা সংখ্যা।

যা কিছু সান্ত,
অনন্ত
বিরাজ করে তার’ই ভিতরে,
বিশ্বচরাচরে।
যেমন সাগরে বরফের শিলা ভাসে,
তেমনি একই সত্ত্বা ভাসে অগণ্য নামে রূপে, অনন্ত মহাকাশে।
দিবস রাত্রি,
কত কাল ধরে কত অসংখ্য যাত্রী –
এসে নামে এ ধরার খেয়াঘাটে।
সারাটা দিন কাটে,
জীবনের হাটে বৃথাই ঘুরে ফিরে -
সাঁঝবেলায় ফিরে চলে যায় শুন্য হাতে আপন কুটিরে।