দ্বিতীয় সংখ্যা
Showing posts with label দ্বিতীয় সংখ্যা. Show all posts

বিষাদগাথা - অর্ঘ্যদীপ ঘোষ

চিত্রালংকরণ: কর্ণিকা বিশ্বাস
 
প্রতি সেমেস্টারে প্রেমিকা বদলে নেয় যে যুবক

স্বামীর সাথে মিলিত হবার পূর্বে
প্রাক্তন প্রেমিকের মুখ, কল্পনা করে যে নারী

আমি কি চাইলেও কোনওদিন
তাদের মতো হতে পারি?

পারি নি কিছুই শুধু অপলক
তাকিয়ে থাকা ছাড়া;
দেখেছি এক আশ্চর্য নীল আলোয়
ঈর্ষা টবে ফুটে ওঠে কান্নার ফুল

আজন্মকালের ভুল অপেক্ষার মাঝে
ছিল বিষাদ বলতে এই -

আমার মৃত্যুতে তোমার বৈধব্যযোগ নেই...

বড় হওয়ার আগে (প্রথম পর্ব) - কর্ণিকা বিশ্বাস

বড় হওয়াটা একদিনে না ঘটলেও, প্রায়শই উপলব্ধিটা হঠাতই একদিন ঘটে। হয়ত কোন দরকারী কাজ সারছেন, এমন সময় মাথার মধ্যে টিকটিক করে কাজের চাপ, দায়দায়িত্ব, নির্ধারিত কর্মপরিকল্পনারা এক সাথে হেঁকে উঠে বড় হওয়াটা জানান দিয়ে দিল। আপনাদের কথা জানিনা, তবে আমার জীবনে এই ঘটনা হামেশাই ঘটে থাকে। সত্যি বলতে কি,আক্ষেপ করাটা একটা অভ্যাস। বিস্তারিত কার্য-কারণ বর্ণনা করে পাঠকের ধৈর্য্যের পরীক্ষা নেব না; আজ বরং একটু পূর্বকথা বলি। 

আমি জন্মাবধি প্রধানত কলকাতানিবাসী। আমার দাদু-ঠাকুর্দা ছিলেন পূর্ববঙ্গের লোক। বাংলা সাহিত্যে ভিটে মাটি ছেড়ে আসা মানুষের গল্প তো কম নেই। সুনিল বাবুর 'পূর্ব-পশ্চিম' পড়েনি এমন বাঙালি বিরল। এছাড়াও, দেশ পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হওয়া তপন রায়চৌধুরীর 'বাঙ্গালনামা'ও অনেকে পড়েছেন। আমার বাবা-কাকারা ছোটবেলায় যে অনটনের মধ্যে মানুষ হয়েছেন আমাদের বেলায় সেটা পুষিয়ে দেওয়ার একটা বিশেষ চেষ্টা ছিল। তবে, কখনই সেটা মাত্রাতিরিক্ত হয়নি। 

মৃত্যু এবং অন্যান্য রাসায়নিক - নীলাভ বিশ্বাস

চিত্রালংকরণ: কর্ণিকা বিশ্বাস

বিছানার পাশে রাখা ছোট্ট একটা টুল, টুলের উপর দুটো ট্যাবলেট,পেন,স্টীলের ঘড়ি,জলের গ্লাস আর একটা দলাপাকানো কাগজ। অথচ শুধু কাগজ বললে ভুল হবে, ওটা একটা চিঠি। শহরের মেরুদন্ড দিয়ে ঘষটে চলা অফিস ফেরত মানুষ, রাস্তার পাশে রাখা ভাঙা মিনিবাস, শববাহী গাড়ির পেছনে উড়ন্ত খই, ডাস্টবিনের কাক – এসব পার্থিব ছায়াছবিদের কাছে চিঠির জবাব চাইতেই রাস্তায় অনন্ত। নীহারিকার লেখা শেষ চিঠি। নীহারিকা হঠাৎ বেখাপ্পা কিছু কথা লিখে পাঠালই বা কেন জানার প্রয়োজন শুধু অনন্তর একার। বছর ষাটের বৃদ্ধ অনন্ত শহরের হাইওয়েতে একা। বৃষ্টি আসল।