দেবলীনা চট্টোপাধ্যায়
Showing posts with label দেবলীনা চট্টোপাধ্যায়. Show all posts

ঘরে ফেরার গান ● দেবলীনা চট্টোপাধ্যায়

 


 

“এ এন টি ওয়ান জিরো নাইন ফোর।”

শ্রান্ত গলায় কোডটা আউড়েই নরম গদিওলা চেয়ারে শরীর এলিয়ে দিল অন্তু। উফ্, আজ ভীষণ ধকল গেছে। এই মুহূর্তে একটা নীলাভ আলো তার সারা শরীরের ওপর খেলে বেড়াচ্ছে। স্ক্যান শেষ হলে নিজের মালিকের ব্যাপারে নিশ্চিন্ত হল ব্রহ্মাণ্ডযান, নড়তে শুরু করল আলতোভাবে। খ্যাঁচ্। মৃদু আওয়াজ শুনে অবসন্ন চোখের পাতা দুটো আস্তে আস্তে খুলল ব্রহ্মাণ্ডযানের একমাত্র যাত্রীটি। একটা লিকলিকে ধাতব হাত সামনের কন্ট্রোল প্যানেল থেকে বেরিয়ে এসে তার মুখের সামনে ধরে আছে দুটো ট্যাবলেট।

রেনেসাঁ - দেবলীনা চট্টোপাধ্যায়

গল্প

—“আর কি সত্যিই কোনো উপায় নেই?”

—“সরি প্রোফেসর। এটাই একমাত্র রাস্তা। আমি ৭৪৩২১৫৭৯০৩ সংখ্যক ডেটা অ্যানালিসিস করে দেখেছি।”

একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন ডঃ উৎসব নিয়োগী। সামনের খোলা জানালা দিয়ে দূরের মাঠটার দিকে চলে গেল তাঁর নজর। এটা ওয়র্কস্টেশনের মাটির ওপর তলার অংশ। বাইরে থেকে দেখলে একটা ভাঙ্গা ওয়ার বাঙ্কার ছাড়া কিছুই না। গতরাতেই একটা ভয়ঙ্কর ভূমিকম্প হয়ে গেছে।

বাঁশ - দেবলীনা চট্টোপাধ্যায়

হাসির গল্প

অলংকরণ - পিয়াল চক্রবর্তী

-মশাই, ও মশাই, শুনছেন?

-উঁ?

-আরে মোলো যা! আরে ওওও দাদা, বলছি আপনি কি ডেডবডি নাকি?

দ্বৌসজ - দেবলীনা চট্টোপাধ্যায়

ফ্যান্টাসি গল্প

অলংকরণ : সুমিত রায়

একটা আলতো আলো। পদ্মপাতার মতো নরম মখমলে। আমার মুখের ওপর যেন খেলা করছে আলোটা। এই আছে, এই নেই! বারবার যাচ্ছে কোথায়? ঘষা কাচের মতো একটা আবছায়া ধরে ফেলছে ওকে,আবার ঠিক এদিক ওদিক গলে ফুড়ুৎ করে বেরিয়ে পড়ছে আলোটা। ভারী মজা তো!

গাছপাথর - দেবলীনা চট্টোপাধ্যায়

অলংকরণ - প্রতিম দাস

বিড়িতে একটা লম্বা টান দিয়ে ফ্যাক ফ্যাক করে হেসেছিলেন অনন্তবাবু, “আরে মশাই হয় হয়! এ দুনিয়ায় সবই হয়।” আর ঝট করে আমার মনে পড়ে গেছিল ঝুরিদিদার কথা।

আমার ঝুরিদিদা। বাতাসের গায়ে আঁকিবুকি কেটে,কখনো বা খলখল করে হেসে গড়িয়ে পড়ত,কখনো বা মেয়েদের ইস্কুলের বড়দিদিমণির মতো কোমরে হাত দিয়ে কাদের যেন বকাঝকাও করত। আশেপাশের যত অদেখা, অজানা জিনিসের হদিশ ছিল ঝুরিদিদার কাছে। লোকে অবশ্য আড়ালে পাগলী বলত।

এক যে ছিল রাজা - দেবলীনা চট্টোপাধ্যায়

অলংকরণ : সুমিত রায় ও মিশন মন্ডল
(১)

সন্ধ্যে নামছে জঙ্গলের কোণায় কোণায়। পশ্চিমে আকাশ জুড়ে রঙের খেলাও প্রায় শেষের পথে, ঘন কালো রঙের পাতলা চাদর নেমে আসছে পৃথিবীর বুকে। অতন্দ্র প্রহরীর মতো দাঁড়িয়ে থাকা বিশাল গাছগুলোর বেষ্টনী এড়িয়ে দ্রুত এগোচ্ছিল লোকটা। দক্ষিণে নদীর দিক থেকে একটা ভেজা দামাল হাওয়া ছুটে এসে ছোট্ট শিশুর মতো কচি হাতের পরশ বুলিয়ে দিচ্ছে চোখে মুখে।