সম্পাদকের কথা
Showing posts with label সম্পাদকের কথা. Show all posts

সম্পাদকের কথা

প্রিয় পাঠকবন্ধুরা,

সময়ের চাকা ঘুরতে ঘুরতে কেমন করে যেন আস্ত একটা বছর পেরিয়ে আবার পুজোর ঢাকে কাঠি পড়ে গেল। কিন্তু এই বছরটা তো আর যেমন-তেমন বছর নয়— এ হল ২০২০! গোটা পৃথিবী জুড়ে প্রতিটা মানুষ ঘরে-বাইরে লড়ে চলেছে এক অদৃশ্য শত্রুর সঙ্গে— কেউ বলে করোনা ভাইরাস, কেউ বলে খিদে। কিন্তু লড়াইটা সবার জীবনেই চলছে। তবে আশার আলোও ফুটতে শুরু করেছে একটু একটু করে, সংক্রমণের উর্দ্ধমুখী রেখা নুয়ে আসছে মানবপ্রাচীরের বুকে ধাক্কা খেয়ে— হয়তো খুব শিগগিরই ভ্যাকসিনও আবিষ্কার হয়ে যাবে এই অজানা শত্রুর মোক্ষম জবাব হিসেবে।

সম্পাদকের কথা

প্রিয় পাঠকবন্ধুরা,

সাধারণত নতুন সংখ্যার সম্পাদকের কথা শুরু করি পাঠকদের শুভেচ্ছা জানিয়ে। কিন্তু মনে অঢেল শুভ ইচ্ছা থাকলেও চতুর্দিকের অশুভ ঘটনা তাকে ম্লান করে দিচ্ছে। দিনে হাজার হাজার মানুষ মারা পড়ছে করোনার প্রাদুর্ভাবে। এই লেখার সময় দেখছি এখনই দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা ৫০০০০ ছুঁই ছুঁই। কারণ লকডাউন উঠতেই মানুষ বাধ্য হয়ে বেরিয়ে পড়েছেন পথে, জীবিকার প্রয়োজনে। আবার অনেকেই আগের মতো জীবনযাপন করতে লেগেছেন। ফলে সংক্রমণ বাড়ছে হু হু করে। স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার সামিল।

সম্পাদকের কথা

প্রিয় পাঠকবন্ধুরা,

প্রথমেই আপনাদের সবাইকে জানাই নতুন বাংলা বছরের প্রীতি ও শুভেচ্ছা। বেশ কিছুদিন পরে আপনাদের কাছে নিয়ে এলাম পরবাসিয়া পাঁচালীর এই নতুন সংখ্যা। পত্রিকা প্রকাশে বেশ খানিকটা বিলম্ব হলেও আশা করি আপনারা চারপাশের চরম নিরানন্দময় পরিস্থিতিতে আমাদের অপারগতার কথা কিছুটা হলেও অনুধাবন করতে পেরেছেন।

সম্পাদকের কথা

প্রিয় পাঠকবন্ধুরা,

প্রথমেই আপনাদের সবাইকে জানাই নতুন বছরের প্রীতি ও শুভেচ্ছা। আপনাদের সঙ্গে পরবাসিয়া পাঁচালীও পেরিয়ে এল আরো একটা বছর। গত বছর এই সময়েই প্রকাশিত হয় আমাদের বিশেষ কল্পবিজ্ঞান ও ফ্যান্টাসি সংখ্যা। নতুন বছরের শুরুতে কী বিষয়ে আমাদের পত্রিকা সাজানো যায় নিয়ে বেশ দোলাচলে ছিলাম। তখন একদিন দুই পাঠকের যে কথোপকথন শুনি তা খানিকটা এইরকম...

সম্পাদকের কথা

প্রিয় পাঠকবন্ধুরা,

হই-হই করতে করতে কীভাবে যেন পুজোর ক'টা দিন মুঠোয় ধরা বালির মতো গড়িয়ে গেল, বোঝাই গেল না। ঠিক যেন একটা মায়াবী স্বপ্ন! মা ফিরে গেলেন স্বধামে। কিন্তু বাঙালির উৎসব কি তাতে ফুরোয়? বিসর্জনের করুণ সুর কাটতে না কাটতেই লক্ষ্মীপুজো পেরিয়ে বাঙালি এখন দিন গুনছে আলোর রোশনাইয়ে গা ভাসাবার--- সামনেই যে দীপাবলি, কালীপুজো।

সম্পাদকের কথা

প্রিয় পাঠকবন্ধুরা,

প্রথমেই আপনাদের সবাইকে জানাই প্রীতি ও শুভেচ্ছা। শারদ সংখ্যার পর আমরা পরিকল্পনা করেছিলাম সাহিত্যের আলাদা আলাদা গোত্র নিয়ে এক একটি সংখ্যা করার, যাতে পরীক্ষা নিরীক্ষা করার বিস্তর সুযোগ থাকে। সেই মত গত জানুয়ারি মাসে প্রকাশিত হয়েছিল কল্পবিজ্ঞান ও ফ্যান্টাসি সংখ্যা, আর নতুন বাংলা বছরের শুরুতে আমাদের নিবেদন ছিল বিশেষ অপরাধ ও রহস্য সংখ্যা। বেশ কয়েকটি জনরা ফিকশনের ওপর সংখ্যা করার পর এবার আমাদের পরিকল্পনা বিভিন্ন সাবজনরা নিয়ে চর্চা করার। সেই মতো প্রকাশিত হলো ‘লাভক্রফটিয়ান হরর’ ও ‘সাইকোলজিকাল হরর’ নিয়ে ‘পরবাসিয়া পাঁচালী’র বর্ষা ২০১৯ সংখ্যা।

সম্পাদকের কথা

প্রিয় পাঠকবন্ধুরা,

প্রথমেই আপনাদের সবাইকে জানাই নতুন বাংলা বছরের প্রীতি ও শুভেচ্ছা। শারদ সংখ্যার পর আমরা পরিকল্পনা করেছিলাম সাহিত্যের আলাদা আলাদা গোত্র নিয়ে এক একটি সংখ্যা করার, যাতে পরীক্ষা নিরীক্ষা করার বিস্তর সুযোগ থাকে। সেই মত গত জানুয়ারি মাসে প্রকাশিত হয়েছে কল্পবিজ্ঞান ও ফ্যান্টাসি সংখ্যা। সেটি কিঞ্চিৎ হলেও পাঠকানুকুল্য পাওয়ায় এবারে নতুন বাংলা বছরের শুরুতে আমাদের নিবেদন - বিশেষ অপরাধ ও রহস্য সংখ্যা।

তবে ‘অপরাধ ও রহস্য’কে আদৌ সাহিত্যের গোত্র বলা যায় কিনা তা নিয়ে পাঠক ও লেখকমহলে অনেকের মধ্যেই দ্বিধা রয়েছে। এ প্রসঙ্গে শরদিন্দু ব্যোমকেশকে নিয়ে তাঁর প্রথম গল্প-সংগ্রহ ‘ব্যোমকেশের ডায়েরী’র ভূমিকায় (১৯৩৩) লিখেছিলেন, “ডিটেকটিভ গল্প সম্বন্ধে অনেকের মনে একটা অবজ্ঞার ভাব আছে- যেন উহা অন্ত্যজশ্রেণীর সাহিত্য- আমি তাহা মনে করি না। Edgar Allan Poe, Conan Doyle, G. K. Chesterton যাহা লিখিতে পারেন, তাহা লিখিতে অন্ততঃ আমার লজ্জা নাই।” আমাদেরও মতে, সত্যজিৎ রায়, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, সমরেশ বসু, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, সমরেশ মজুমদার, সুচিত্রা ভট্টাচার্য, যাঁরা সাহিত্যের অন্যান্য গোত্রে প্রথিতযশা, তাঁরা যখন ‘অপরাধ ও রহস্য’ নিয়ে মাথা ঘামিয়েছেন, আমাদের আর এটা সাহিত্যের গোত্র কিনা তা নিয়ে মাথা না ঘামালেও চলবে!

‘অপরাধ ও রহস্য’ নিয়ে কথা বলতে গেলে অবধারিতভাবে উঠে আসবে পাল্প ম্যাগাজিন বা মণ্ড-পত্রিকাদের কথা। বর্তমান সময়ে জনরা ফিকশন আবার ফিরে এসেছে পাঠকের মনে। ভাবলে অবাক লাগে, একটা সময় বিভিন্ন জনরায় নানা স্বাদের লেখা নিয়ে নিয়মিত প্রকাশিত হত মাসিক রহস্য পত্রিকা, মাসিক রোমাঞ্চ আর মাসিক গোয়েন্দা! শুধু এই তিনটি নয়, বিভিন্ন সময়ে ১৫-১৬টি পত্রিকা প্রকাশিত হয়েছে এই বাংলার বুকেই। কী হলো তাদের? অনীশ দেব তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত ‘রহস্য রোমাঞ্চ গোয়েন্দা পত্রিকার সেরা ১০০ গল্প’-এর ভূমিকা ‘রহস্যময় দিন, রোমাঞ্চকর রাত’-এ সে দুঃখের কাহিনী জানিয়েছেন, “সত্তর দশকের যে-উত্থান আশা জাগিয়েছিল, পরের দশকে সেটা খুব দ্রুত স্তিমিত হয়ে গেছে। তবে এর কারণ হিসেবে শুধুমাত্র অডিয়ো-ভিশুয়াল মিডিয়ামকে দোষ দেওয়া যাবে না। কিংবা আধুনিক মুদ্রণ পদ্ধতির জাঁকজমককে দায়ী করা যাবে না। এই দুইয়ের কাছে পত্রিকাগুলো হেরে তো গিয়েছিলই, তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল একঘেয়ে দুর্বল রচনার চাপ। এই তিনের কাছে নতিস্বীকার করে ‘ওরা’ নিভে গিয়েছিল।”

এখন ‘অপরাধ ও রহস্য’ বললেই পাঠকের মনে ভেসে ওঠে দেশ বিদেশের নানা গোয়েন্দাদের কথা। কিন্তু ‘অপরাধ ও রহস্য’ মানে কি শুধুই গোয়েন্দা? আমরা চেয়েছিলাম চিরাচরিত গোয়েন্দাদের পাশাপাশি থাকুক অন্যরকম লেখা যার মধ্যে দেখা মিলবে অপরাধীদের মনস্তত্বের কিংবা তদন্তের সত্য ঘটনার। সে কাজে কতটা সফল হয়েছি তা পাঠকরাই বলবেন। পাঠকদের মতামত এক্ষেত্রে যে খুব গুরুত্বপূর্ণ সেটা বলাই বাহুল্য। কাজেই ভালো লেগেছে, খারাপ লেগেছে বা মনে দাগ কাটেনি, যে কোনো ধরণের মতামত আমাদের জানাতে ভুলবেন না। আমরা ধন্যবাদ জানাই সমস্ত লেখক ও শিল্পীকে, যাঁদের একের পর এক অসাধারণ কাজে এই সংখ্যা সেজে উঠেছে।

তাহলে আর দেরি কীসের, রহস্যময় সাগরে ডুব দিন। যাত্রা শুভ হোক!

ধন্যবাদান্তে,

সম্পাদকের কথা

প্রিয় পাঠকবন্ধুরা,

প্রথমেই আপনাদের সবাইকে জানাই নতুন বছরের প্রীতি ও শুভেচ্ছা। আপনাদের সঙ্গে পরবাসিয়া পাঁচালীও পেরিয়ে এল আরো একটা বছর। গত বছর এই সময়েই প্রকাশিত হয় আমাদের প্রথম বিশেষ সংখ্যা - কল্পবিজ্ঞান ও রহস্য সংখ্যা। গত বছরের শুরুতে আমাদের পত্রিকা নিয়ে যে সমস্ত দোলাচল ছিল, পাঠকদের ভালোবাসায় তার অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা গেছে। এই বছরে আমাদের প্রথম নিবেদন - বিশেষ কল্পবিজ্ঞান ও ফ্যান্টাসি সংখ্যা।

বাংলা ভাষায় এবং ভারতের প্রথম কল্পবিজ্ঞান পত্রিকা ‘আশ্চর্য!’ প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৬৩-র জানুয়ারি মাসে। আকাশ সেন ছদ্মনামে অদ্রীশ বর্ধন সম্পাদিত এই পত্রিকাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠেছিল কল্পবিজ্ঞানকে জনপ্রিয় করার প্রচেষ্টা। কিন্তু কয়েক বছরের মধ্যে সে পত্রিকা বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীকালে রণেন ঘোষের সম্পাদনায় ‘বিস্ময়’ কিংবা অদ্রীশবাবুর উদ্যোগে ‘ফ্যানট্যাসটিক’-এর মতো পত্রিকার উত্থান হয়েছিল। কিন্তু কালের গ্রাসে তারাও একে একে বিদায় নিয়েছে। তবে আনন্দের কথা, বর্তমান সময়ে ‘কল্পবিশ্ব’-এর উদ্যোগে কল্পবিজ্ঞান নিয়ে নতুনভাবে পাঠকমহলে উৎসাহ গড়ে উঠছে।

আশি-নব্বইয়ের দশকে বাংলায় কল্পবিজ্ঞান নিয়ে ‘ফ্যানট্যাসটিক’ যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কল্পবিজ্ঞান সাহিত্যিক সিদ্ধার্থ ঘোষের বক্তব্য ছিল অনেকটা এরকম―

“বিদেশে সায়েন্স ফিকশন আজ সিরিয়াস অধ্যয়নের বিষয়। ...বাংলায় সায়েন্স ফিকশন নিয়ে সিরিয়াস কোনো গবেষণা হয়নি। বাংলা সাহিত্য পত্রিকায় সায়েন্স ফিকশান আজও অচ্ছুৎ। ...এই অবস্থার জন্য বিস্মিত হবার কোনো কারণ নেই। শিশু কিশোরদের জন্যই শুধু সায়েন্স ফিকশান লেখা হবে, এটাই এখনো অবধি রেওয়াজ। আর সেই সঙ্গে সায়েন্স ফিকশানের দুটি বাংলা পরিভাষা ‘বিজ্ঞান ভিত্তিক গল্প’-এর সঙ্গে ‘কল্পবিজ্ঞানের গল্প’-এর ঠাণ্ডা লড়াই জারি করেছেন কিছু স্পর্শকাতর পণ্ডিতম্মন্য ব্যক্তি। বুঝতে অসুবিধা হয় না যে কিছু সমালোচক মনে করেন কল্পবিজ্ঞানের গল্প কিঞ্চিৎ নিকৃষ্ট জাতের, যেখানে ফ্যান্টাসির দাপট বেশি এবং বিজ্ঞানের অপলাপের সুযোগ আছে। এর থেকে আরো একটি ভ্রান্ত অনুমানের হদিশ পাই আমরা, যা সায়েন্স ফিক্‌শনের প্রকৃত তাৎপর্য ও সুপ্ত ক্ষমতা উপলব্ধি করতে না পেরে তাকে বিজ্ঞানকে জনপ্রিয় করে তোলার কাজে নিযুক্ত করার পথনির্দেশ মনে করে।”
―সিদ্ধার্থ ঘোষ (সায়েন্স ফিকশান একটি পরিভাষার জন্ম, শারদীয়া এক্ষণ, ১৯৮৮)

তারপর গঙ্গা দিয়ে অনেক জল বয়ে গেলেও অবস্থা খুব একটা পাল্টায়নি। কারণ ‘ফ্যানট্যাসটিক’-পরবর্তী যুগের খ্যাতনামা কল্পবিজ্ঞান সাহিত্যিক অভিজ্ঞান রায়চৌধুরীর কথাতেও ত্রিশ বছর আগেকার কথার অনুরণন লক্ষ করা যায়।

“বাংলায় কল্পবিজ্ঞানে চার ধরণের লেখার সম্ভাবনা দেখি। প্রথমত অবশ্যই ছোটদের জন্য হাল্কা কল্পবিজ্ঞানের লেখা যেখানে বিজ্ঞানের শর্ত, লজিক কোনটাই থাকে না। লজিক ও বিজ্ঞান একটা বড় অংশ বাঙালী পাঠককে দূরে সরিয়ে দেয়। ...এবার, দ্বিতীয় শ্রেণীর লেখায় আসি। এ ধরণের কিছু লেখা খুব কম সংখ্যায় হলেও আমরা শিশু কিশোর পত্রিকা গুলোতে পেয়েছি, যেখানে গল্পের মধ্যে বিজ্ঞান বা কল্পিত বিজ্ঞানে বড় কোন ভুল থাকে না। ...এবার, তৃতীয় শ্রেণীর গল্পের ক্ষেত্রে আসি। শুধুই বড়দের জন্য লেখা কল্পবিজ্ঞানের গল্প। বাংলা সাহিত্যে এর একটা বড় অভাব আছে। ...এবার শেষ বা চতুর্থ শ্রেণীর লেখার কথায় আসি। এক্ষেত্রে গল্পের কেন্দ্রে থাকে বিজ্ঞান।”
―অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী (অভিজ্ঞান রায়চৌধুরীর সাথে কল্পবিজ্ঞান নিয়ে আলোচনা, শারদীয়া কল্পবিশ্ব, ২০১৮)

পরবাসিয়া পাঁচালী তার জন্মলগ্ন থেকেই ব্যতিক্রমী সাহিত্যচর্চার চেষ্টা করে এসেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। তাই কল্পবিজ্ঞান ও ফ্যান্টাসির মতো সাহিত্য, যা বাংলায় কিছুটা হলেও অবহেলিত ও ভ্রান্ত ধারণার বশবর্তী, তা নিয়ে চর্চার আগ্রহে পরবাসিয়া পাঁচালীর এই সংখ্যার আয়োজন। বিশেষভাবে আমরা কৃতজ্ঞ, কল্পবিশ্বের অন্যতম দুই সম্পাদক দীপ ঘোষ ও সন্তু বাগের কাছে। এই সংখ্যা করার পথে নানান বিষয়ে সাহায্য করেছেন তাঁরা। আমাদের ইচ্ছে ছিল, ‘আশ্চর্য!’, ‘বিস্ময়’ ও ‘ফ্যানট্যাসটিক’ থেকে তিনটি হারিয়ে যাওয়া লেখা এই সংখ্যায় পুনর্মুদ্রণ করব। সে লেখাগুলি স্ক্যান করে দিয়ে সাহায্য করেছেন সন্তুবাবু। দীপবাবু দিয়েছেন ‘আশ্চর্য!’ ও ‘ফ্যানট্যাসটিক’-এর লেখাগুলির বর্তমান প্রকাশক কল্পবিশ্ব পাবলিকেশান-এর কাছ থেকে প্রকাশের অনুমতি। এছাড়া আমরা ধন্যবাদ জানাই সমস্ত লেখক ও শিল্পীকে, যাঁদের একের পর এক অসাধারণ কাজে এই সংখ্যা সেজে উঠেছে।

পাঠকদের মতামত এক্ষেত্রে যে খুব গুরুত্বপূর্ণ সেটা বলাই বাহুল্য। কাজেই ভালো লেগেছে, খারাপ লেগেছে বা মনে দাগ কাটেনি, যে কোনো ধরণের মতামত আমাদের জানাতে ভুলবেন না। তাহলে আর দেরি কীসের, কল্পনার অপরিসীম দুনিয়ায় প্রবেশ করুন। যাত্রা শুভ হোক!

ধন্যবাদান্তে,

সম্পাদকের কথা

“আশ্বিনের শারদ প্রাতে, বেজে উঠেছে আলোকমঞ্জির, ধরণীর বহিরাকাশে অন্তরিত মেঘমালা, প্রকৃতির অন্তরাকাশে জাগরিত জ্যোতির্ময়ী জগৎমাতার আগমন বার্তা, আনন্দময়ী মহামায়ার পদধ্বনি… অসীম ছন্দে বেজে উঠে রূপলোক ও রসলোকে আনে নবভাব মাধুরীর সঞ্জীবন, তাই আনন্দিতা শ্যামলী মাতৃকার চিন্ময়ীকে মৃন্ময়ীতে আবাহন… আজ চিৎশক্তি রূপিণী বিশ্বজননীর শারদশ্রী বিমণ্ডিতা প্রতিমা, মন্দিরে মন্দিরে ধ্যানবোধিতা…”

প্রিয় পাঠকবন্ধুরা,

‘আসছি আসছি’ করে শিউলির গন্ধমাখা ভোরে আলোর বেণু বাজিয়ে এসে পড়েছে মহালয়া। পিতৃপক্ষের শেষ। সূচনা হলো দেবীপক্ষের। পড়ল ঢাকে কাঠি। আর মাত্র কয়েকটা দিন বাকি বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গা পুজোর। আর সেই সঙ্গে আপামর পাঠকের দরবারে আগমন ঘটল ‘পরবাসিয়া পাঁচালী’র, পাক্কা তিন মাস বিরতির পর। গতবছর প্রথমবারের জন্য পাঠকের কাছে আমাদের নিবেদন ছিল ‘পরবাসিয়া পাঁচালী’র শারদ অর্ঘ্যের। তখন পত্রিকার বয়স তিন মাসও হয়নি। সেদিনের সদ্যভূমিষ্ঠ শিশুর সামান্য প্রচেষ্টাকে পাঠকেরা দরাজভাবে বুকে টেনে নিয়েছিলেন। সে ভালোবাসা আমাদের চলার পথে অপরিসীম সাহস যুগিয়েছিল, আজও যোগায়। যে সাহসে ভর করে আমরা সাহিত্যের ডালি নিয়ে আবার এসেছি। বাণিজ্যিক কোনও উদ্দেশ্যের সম্পূর্ণ বাইরে গিয়ে আপনাদের সবার সঙ্গে এই সাহিত্য সফরে আমাদের সঙ্গী শুধু অদম্য জেদ আর আপনাদের ভালোবাসা। আমাদের কৃতজ্ঞতা জানানোর ভাষা নেই সেই সমস্ত লেখক ও শিল্পীদের প্রতি, যাঁরা অতুলনীয় ভালোবাসায় নানা স্বাদের গল্প, উপন্যাস , কমিকস, প্রবন্ধ, অলংকরণ, চিত্রকর্মে পরবাসিয়া পাঁচালীর এই শারদ সংখ্যা সাজিয়ে তুলেছেন।

তাহলে আর অপেক্ষা কীসের, পড়তে শুরু করে দিন। কেমন লাগল অবশ্যই জানাতে ভুলবেন না। উৎসবের দিনগুলো ভাল কাটুক সকলের।

ধন্যবাদান্তে,

সম্পাদকের কথা

প্রিয় পাঠকবন্ধুরা,

দীর্ঘ তিন মাস বিরতির পর আবার আগমন ঘটল পরবাসিয়াদের। বিশেষ নববর্ষ সংখ্যার পর পাঠকদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিয়ে পত্রিকার উর্ধ্বমুখী গ্রাফ বজায় রাখতে আমরা মাসিক থেকে ত্রৈমাসিক প্রকাশ করব বলেছিলাম। এখন সে কাজে আমরা সফল না ব্যর্থ তা আপনারাই বিচার করবেন।

কলকাতা তথা ভারতের অনেক জায়গায় এখন বর্ষাকাল, যদিও গ্লোবাল ওয়ার্মিং এর কৃপায় হাঁসফাঁস করা গরম থেকে মুক্তি মেলেনি। এর মধ্যে গা ছমছমে ভূতের গল্প পড়তে তো দারুণ লাগে। আর তার মাঝে মাঝে কিছু মজার গল্প থাকে? কিংবা এমন কিছু যাতে রয়েছে দুইয়ের একটা জমজমাট মিশেল? এই সব কিছু নিয়েই এবারের বিশেষ অলৌকিক ও হাস্যকৌতুক সংখ্যা। ছোট বড় মিলিয়ে ১৬টা গল্প থাকছে এই সংখ্যায়। নিয়মিত বিভাগে আছে কিছু কবিতা। এছাড়া এই সংখ্যার বিশেষ আকর্ষণ জুনজি ইতোর বিখ্যাত মাঙ্গা ‘The Enigma of Amigara Fault’-র অনুবাদ যা পড়া ও অনুবাদ করতে গিয়ে এই সম্পাদক মশায়ের গায়ের লোম খাড়া, ঘাম ছুটে যাওয়া মানে প্রচন্ড ভয় পেলে মানুষের যা যা হয় সবই হয়েছিল। এই সংখ্যাকে সর্বাঙ্গসুন্দর করেছেন শিল্পী সুমিত রায়, অরিজিৎ ঘোষ আর সুমন মান্না। এছাড়া অনেকদিন পর প্রচ্ছদ এঁকেছেন আমাদের সবার প্রিয় কর্ণিকাদি।

তাহলে আর দেরি কেন, পড়তে শুরু করে দিন। কেমন লাগল অবশ্যই জানাবেন।

ধন্যবাদান্তে,

সম্পাদকের কথা

প্রিয় পাঠকবন্ধুরা,

প্রথমেই সবাইকে জানাই নতুন বছরের বুকভরা ভালোবাসা ও শুভেচ্ছা। আরো একটা বছর ঘুরে গেল। গরম অনেকদিন ধরেই পড়ে গেছে, এটা খালি সরকারি শিলমোহর পড়ল বলা যেতে পারে। বছরের মুষ্টিমেয় যে কটা দিন আমরা জাঁকজমক করে বাঙালিয়ানা পালন করি তার মধ্যে এটা একটা। আশা করছি সবাই খুব আনন্দ করেছেন। যদিও গত সারা বছর ধরেই ঘটে চলা নানা খারাপ খবর আমাদের ভালো থাকতে দেয়নি। আসুন আমরা প্রতিজ্ঞা করি নতুন বছরে আমরা সকলে মিলে এই অমানিশা কাটিয়ে তুলতে সাহায্য করব।

গত বছরেই আমাদের আত্মপ্রকাশ। তারপর গুটি গুটি পায়ে পথ চলে প্রথম বড় পদক্ষেপ শারদীয়া সংখ্যা। পাঠকদের উৎসাহ আর ভালোবাসায় এক এক করে প্রকাশিত হয়েছে ১৩টি সংখ্যা। এবারে আমাদের নিবেদন বিশেষ নববর্ষ সংখ্যা। ছোট বড় মিলিয়ে থাকছে সর্বমোট ১২টি লেখা আর ১৪টি কবিতা। শ্রদ্ধেয় মলয় রায়চৌধুরীর লেখায় এবারে আমাদের পত্রিকা ঋদ্ধ। নিয়মিত লেখকরা ছাড়াও বাংলা অনলাইন সাহিত্যের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত সহেলী চট্টোপাধ্যায়, দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য আর দ্বৈতা হাজরা গোস্বামীর ভিন্ন স্বাদের গল্পে আপনাদের মন ছুঁয়ে যাবেই। সঙ্গে থাকছে সবার প্রিয় কুটুম কাটাম বিভাগে ২ জন শিল্পীর কাজ আর নিয়মিত দুই ধারাবাহিক। বরাবরের মত অনবদ্য একটি প্রচ্ছদ উপহার দিয়েছেন রুমেলা দাস। আর এই সংখ্যা থেকে আমাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অন্যতম নিয়মিত লেখক বিভাবসু। তাকে লুব্ধক ও পরবাসিয়া পাঁচালী পরিবারের সকলের তরফ থেকে জানাই সাদর অভ্যর্থনা।

তাহলে আর দেরি কেন। উঠে বসুন পরবাসিয়ার পক্ষীরাজের পিঠে। কথা দিচ্ছি হতাশ হবেন না। খুব ভালো থাকবেন। আর সবাইকে ভালো রাখবেন। এবারের মতো এইটুকুই।

সম্পাদকের কথা

প্রিয় বন্ধুরা,

আবার চলে এলাম আমরা পরবাসিয়া পাঁচালীর একটা ঝকঝকে নতুন এক সংখ্যা নিয়ে। এমনিতে এই দিনগুলোতে মন উৎফুল্ল থাকে, কিন্তু এবারে মন ভালো নেই একদম। কারণ লুব্ধক নামক যে বিশাল ছাতাটার তলায় পরবাসিয়ার দল জড়ো হয়, তারই নাটক সংক্রান্ত কার্যক্রমে আমরা ইতি টানলাম এই মাসে। আই আই টি গুয়াহাটির ব্রহ্মপুত্র ছাত্রাবাসের music room এ যাত্রা শুরু। প্রথম নাটক আদ্যোপান্ত হাসির নাটক চোখে আঙুল দাদা। তারপর আরো দু খানা হাসির নাটক হারানো প্রাপ্তি আর সল্যুশন এক্স। তারপর নয় নয় করে নাট্যকারের সন্ধানে তিনটি চরিত্র, বিভাব, আন্তিগোনে, এবং ইন্দ্রজিৎ, মরাচাঁদ এর মত নাটক। মাঝে হয়েছে শিবরাম চক্রবর্তীর গল্প অবলম্বনে দেবতার জন্ম আর সম্পূর্ণ মৌলিক নাটক অনার্য সভ্যতা। আর যাত্রা শেষ হল শম্ভু মিত্রের কৃষ্ণকৌতুক গর্ভবতী বর্তমান দিয়ে। তবে আমরা আশাবাদী এটা সমাপ্তি নয়, সাময়িক বিরতি। আপাতত লুব্ধক থাকবে দলের সবাই আর দর্শকদের সবার স্মৃতিতে। আর থাকবে পরবাসিয়া পাঁচালী, খুব শীঘ্রই আসছে যার বিশেষ নববর্ষ সংখ্যা। আপাতত এই সংখ্যা পড়ুন, অন্যকে পড়ান আর মতামত জানান কেমন লাগল। এবারের মত এইটুকুই।

সম্পাদকের কথা

বইমেলার পাট চুকল তাহলে। বাঙালীর বারো মাসে তেরো পার্বণ। তাও জানুয়ারি মাসের শেষ বুধবারের জন্য বাঙালির অপেক্ষা আর পাঁচটা পার্বণের মতো একদমই নয়। এখন ফ্লিপকার্ট আমাজন এর দৌলতে সারা বছরই বই কেনা হয়। আর সব চাহিদা মেটাতে কলেজ স্ট্রিট তো আছেই। কিন্তু কল্পনার জগতে হারিয়ে যাওয়ার এই উৎসবে বাঙালিকে নামমাত্র ছাড়ে বই কিনতে রুধিবে এমন সাধ্যি স্বয়ং মা দুর্গারও নেই। সারা বছর যে সমস্ত কবি সাহিত্যিকের লেখা পড়া হল কিংবা যাদের সঙ্গে ফেসবুকে আলাপ তাদের চাক্ষুষ দেখার সুযোগ, তাদের সইসম্বলিত বই হাতে বাড়ি ফেরার এই লোভ সত্যিই অসংবরণীয়।

তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাকি পার্বণের চরিত্র বদলেছে, বইমেলাই বা বাদ পড়ে কী করে? মেলা বই কিন্তু ফুড কোর্টে ধুলোমাখা বিরিয়ানিভক্ষকের লাইনগুলো মাঝে মাঝেই বইয়ের দোকানের ভিড়ের তেজকে বড্ডো বেশি। ভিড়ের চোটে মাঠের দূষণ মাত্রা প্রায়শই বিপদ সীমা পার করলেও বছরের বাকি সময়ের বেশির ভাগটাই বাঙালির সময় কাটছে স্মার্টফোনে মুখ গুঁজে। বাবা মায়েরা বুড়ো আংলাকে জোড়া বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে হ্যারি পটার কিনে দিতে ভীষণরকম আগ্রহী নইলে কিনা পাড়ায় ঠিক মুখ দেখানো যাবে না। কিছু বইয়ের বিক্রি আকাশছোঁয়া আর অধিকাংশ বই উই তাড়াচ্ছে। তাই বছর কে বছর মেলায় ভিড় বাড়লেও বাঙালির বই প্রীতি আসলে কতটা সেটা নিয়ে অনেকের মনেই অনেকখানি আশংকা।

আমরা পরবাসিয়ার দল মনে করি এত ভিন্ন স্বাদের বিনোদনের প্রলুব্ধকর হাতছানির মধ্যেও বইয়ের আবেদন কোনোদিনই কম হবে না। আর এই আশায় বুক বেঁধেই নিয়ে এসেছি পরবাসিয়া পাঁচালীর নতুন সংখ্যা। আশা করি সবার ভালো লাগবে। জানি বইমেলার কেনা বইগুলো চুম্বকের মত টানছে। তার মধ্যেও যদি সময় করে লেখাগুলো একটু পড়ে ফেলেন আশা রাখি নিশ্চয়ই ভালো লাগবে। ভালো লেখা পড়ুন, ভালো লেখা পড়ান। এবারের মত এইটুকুই।

সম্পাদকের কথা

শীতের দিনে খাওয়াদাওয়াটা সেরে বারান্দায়, দুপুরের রোদে বেশ আমেজ নিয়ে বসেছিলাম। হঠাৎ মনে পড়ল, আধার লিংক করাতে হবে। তাই ব্যাজার মুখে দরজা দিয়ে বেরোতেই নাকে কে যেন একটা রুমাল চেপে ধরলো। তারপর সব অন্ধকার।

চোখ খুলতে দেখি এক অচেনা ঘরে শুয়ে আছি। মাথা ঝিম ঝিম করছে। এতদিনে গল্প উপন্যাস তো কম পড়লাম না। সিনেমা-টিভি সিরিজও কম দেখলাম না। কেউ কিডন্যাপ করেছে বুঝতে তাই সমস্যা হল না। কিন্তু হাত পা বাঁধা নেই কেন? কোথায় সেই গুদামঘর, একগাদা প্যাকিং বাক্স, হাতলভাঙা চেয়ার? বদলে বেশ ছিমছাম, পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ঘর, পরিপাটী বিছানা। ঘরে যেদিকে একটা দরজা থাকার কথা সেদিকে তাকালাম কিন্তু হাতলহীন একটা অস্বচ্ছ দেয়াল চোখে পড়ল। সামনে গিয়ে দাঁড়াতে নিজে থেকেই খুলে গেল। বাইরে আসতেই চক্ষু চড়কগাছ হয়ে গেল।

দেখলাম এক আজব দুনিয়াতে এসে পড়েছি। একদম সাইফাই সিনেমার মত আকাশে উড়ন্ত যান চলাচল করছে। বাইরে রাস্তায় অনেক লোক হাঁটছে। সবাইকে দেখতে একই রকম আমাদের মতন। কিন্তু পরনে অদ্ভুত সব পোশাক, হাতে ফোনের মতো দেখতে আশ্চর্য কিছু একটা। সবকটায় ত্রিমাত্রিক ছবি, লেখা সব একেবারে ভেসে ভেসে উঠছে। দরজার বাইরে একটা বাচ্চা মত ছেলে দাঁড়িয়েছিল। আমি বেরোতেই ঝরঝরে বাংলায় আমায় বলল, “আপনার ঘুম ভাঙলো?”

এরকম আজব দেশে বাংলা বুলি শুনে চমকে গেছিলাম। ওর কাছ থেকেই জানতে পারলাম, এই গ্রহের নাম সাইবং। একটা যন্ত্রের সাহায্যে এরা যেকোনো ভাষায় যেকোনো লোকের সঙ্গে ভাবের আদান প্রদান করতে পারে। এদের সময়ের হিসেব আমাদের সঙ্গে না মিললেও এটুকু বুঝতে পারলাম এরা অন্তত বিজ্ঞানচর্চায় আমাদের থেকে অনেকটাই উন্নত।

আমি চটেমটে জিজ্ঞেস করলাম, “অ্যাই শোন, আমায় ধরে এনেছ কেন?” ছেলেটা হাসল তারপর বলল, “আরে মশাই। জানবেন সব, আগে দেখুন কোথায় এসে পড়েছেন।” তারপর একটা উড়ন্ত যান বোতাম টিপে নামিয়ে সেটায় ওঠার নির্দেশ দিল।

সেই উড়ন্ত যানে যেতে যেতে যা দেখলাম তাতে পিলে চমকে যাবার জোগাড়। দেখলাম একটা শহরে রোবট খুনের তদন্ত করছেন ব্যোমকেশ বক্সী। পাশেই আর এক জায়গায় কৃত্রিম মৌল চুরির কিনারা করতে তলব পড়েছে স্বয়ং ফেলু মিত্তিরের। ওদিকে প্রফেসর শঙ্কু আর প্রফেসর নাটবল্টু চক্র একসঙ্গে কোলাবোরেশন করেছেন। জিজ্ঞেস করে জানা গেল তাঁরা তৈরী করছেন এক সুপারকম্পিউটার যা দিয়ে এই ব্রহ্মাণ্ডের সব গ্রহের সব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে। এই কাজে তাঁদের সাহায্য করছেন বিজ্ঞানী চন্দ্রকান্ত। এক অজানা দ্বীপে, অজানা রহস্য সন্ধানে নৌকো ভাসিয়েছেন জয়ন্ত মানিক আর সঙ্গে কর্নেল নীলাদ্রি সরকার।

এই সব দেখতে দেখতে আমায় সেই ছেলেটা নিয়ে গেল একটা বিশাল সবুজ হাতের কাছে। জানতে পারলেন তিনিই এই গ্রহের অধিপতি। যদিও গলাটা কোথা থেকে আসছে বুঝতে পারলাম না কিন্তু সেই বৃহৎ হাত এক জলদগম্ভীর কণ্ঠে আমায় জিজ্ঞেস করলেন, তোমায় কেন ধরে আনা হয়েছে জানো? উত্তরে ঘাড় নাড়তে জানালেন, পরবাসিয়া পাঁচালীর বিশেষ সংখ্যা করতে হবে রহস্য ও কল্পবিজ্ঞান নিয়ে। না হলে মুক্তি নেই। এখানে বাংলার যে প্রথিতযশা গোয়েন্দা আর বৈজ্ঞানিককে দেখলাম তাদেরও নানা এরকম কাজের ভার দেওয়া হয়েছে যা করলে তবেই তাঁরা ছাড়া পাবেন। এইসব শুনে আমি এমন চমকে উঠলাম যে চট করে ঘুমটা ভেঙে গেল। যাহ আজকেও আর আধার লিংক করতে যাওয়া হল না!

যাই হোক, নতুন বছরে শুরুতেই আমাদের নিবেদন রহস্য ও কল্পবিজ্ঞান সংখ্যা। কারণ বলা তো যায় না কোনদিন কিডন্যাপ হয়ে যেতেও পারি। সাবধানের মার থুড়ি সাইবং তো নেই! ভালো থাকবেন। ভালো রাখবেন। এবারের মতো এইটুকুই।


সম্পাদকের কথা

টুকটুক করে বছর শেষ হতে চলল । শীত বাবাজীবন গেছো দাদার মতো এই আছি, এই নেই করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। কেউ খবর পড়ছেন, কেউ খবর হচ্ছেন, বাকিরা ভালো আছেন। গুজরাত নির্বাচন, বিরাট বিবাহ, জঙ্গিহানা, শিল্পচর্চা, শিশুকন্যা ধর্ষণ, ম্যানহাটনে বিস্ফোরণ, নতুন ফোনের আমদানি, নেতাদের বকবকানি, মহাকর্ষ তরঙ্গের খোঁজ, বিক্ষোভ, মারামারি, এসব, স—অ—ব, হয়ে চলেছে একসাথে, বীভৎস দ্রুততায়। আর এই নীল গ্রহটা অধিবাসীদের সমস্ত পেঁয়াজি সহ্য করে বাঁই বাঁই করে পাক খেয়ে চলেছে ২০১৭ থেকে ২০১৮-এ।

সম্পাদকের কথা

পুজোর রেশ কাটতে না কাটতে গুটি গুটি পায়ে হাজির হয়েছে শীত। গাছের পাতাঝরা দেখতে দেখতে বেরিয়ে পড়ছে লেপ-কম্বল-মাফলার-সোয়েটার। সঙ্গে দোসর অসময়ের নিম্নচাপ। উত্তুরে হাওয়া খবর দিল রসগোল্লার একচেটিয়া অধিকার বাংলারই, যদিও ‘কানাঘুসো’ শোনা যাচ্ছে কপিরাইট আসলে মিলেছে ‘বাংলার রসগোল্লা’র। বেশ কিছু দিন ধরেই এ নিয়ে জল্পনা চলছিল, যদিও তাতে রসগোল্লার বিক্রি কম বা বেশি কিছু হয়নি। রসগোল্লা নিজে কখনও ‘আমার জন্ম কোথায়’ বলে মেগাসিরিয়ালের নায়কের মতো কৌতূহলী হয়ে উঠবে— সে সুযোগ পায়নি।

সম্পাদকের কথা - অক্টোবর ২০১৭

পুজো-টুজো শেষ, তবে উৎসবের তো আর কমতি নেই। প্রতিদিনই হরেক কিসিমের হুজুগ লেগেই আছে। দুগ্গা দুগ্গা বলে নাকের জলে চোখের জলে ভেসে বিসর্জন দিতে না দিতেই লক্ষ্মীদেবী হাজির। তিনি পাততাড়ি গোটানোর পরপরই আবার কালীপুজো, দীপাবলী। তিমিরবিনাশের, তিমিরবিলাসের উৎসব। সেসবও ফুরোয়। ছেঁড়াখোড়া ফানুস ল্যাম্পপোস্টে আটকে বৃষ্টিতে ভিজে চুব্বুস হয়। কত কত বছরের পর দেখা হয় ভাইবোনের। সর্ষেক্ষেতের দুপ্রান্ত থেকে ওরা ছুটে আসে দুহাত ছড়িয়ে। প্রবাসী ফোঁটা নিয়ে মুঠোফোনের স্ক্রিন রাঙা হয়।

সম্পাদকের কথা


দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়, একটু খোঁজাখুঁজি করলেই, নয় নয় করে অন্তত তিনশটি রামায়ণের বর্ণনা আছে। প্রায় সব কটা বর্ণনার মূল স্বরটায় একটা সামঞ্জস্য আছে। রামের টুকটুকে বৌকে রাবণ অপহরণ করে নেওয়ার পর, রাম-রাবণের যুদ্ধ হয় এবং তার আগে-পরের নানা ঘটনা — মোটমাট এই হলো রামায়ণ। আর এই রামায়ণের কল্যাণেই আমাদের দুর্গা পূজা। মানে রাম তো যাবেন লড়তে (বৌ কিনা হনুমানের সাথে পালিয়ে আসতে নারাজ), কিন্তু কোমরের জোর বেশ নড়বড়ে। একজন বুদ্ধি দিলেন, দুর্গাকে ভজিয়ে যদি আশীর্বাদ জোগাড় করা যায় তাহলে এক্কেবারে গ্যারেন্টেড লঙ্কা-বিজয়। কিন্তু তখন নাকি আবার দুর্গার ঘুমের সময়। দেবীকে জাগানো তো আর চাট্টিখানি কথা নয়, কোনো বামুনের সাহসে কুলোয় না। এদিকে বৌ বিনা রামের বড় কষ্ট! তখন রাম গেলেন তখনকার শ্রেষ্ঠ ব্রাহ্মণের কাছে, অকাল বোধনের জন্য।